বিশ্ব ফুটবলের ক্যানভাসে প্রায় দুই দশক ধরে যিনি আঁকিবুঁকি কেটেছেন রূপকথার সব কাব্য, সেই ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি অবশেষে নামছেন তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিদায়ী ম্যাচে। আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক আকাশী-নীল ও সাদা জার্সিতে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তকে আনন্দ আর কান্নার ভেলায় ভাসিয়ে শেষবারের মতো ট্র্যাকস্যুট খুলে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা।
বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় আজ আনন্দ আর বেদনার এক অদ্ভুত সুর। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দিনটি উদযাপনের, আবার একই সাথে এক অসীম শূন্যতার। যে পায়ে ভর দিয়ে আর্জেন্টিনা ৩৩ বছর পর আন্তর্জাতিক ট্রফির খরা কাটিয়েছে, যে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে দেশকে এনে দিয়েছেন স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি, সেই ১০ নম্বর জার্সির গায়ে আজ শেষবারের মতো ফুটবে বিদায়ের আলো।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত ৮টায় এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হবে ৭ অক্টোবর ২০২৬, ভোর ৫টায়। প্রতিপক্ষ হিসেবে বেনিন থাকলেও পুরো মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন কেবল একজনই- ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি বিশ্ব ফুটবলের ক্যানভাসে এঁকেছেন রূপকথার সব কাব্য, আজ তাঁর সেই বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার মুহূর্ত। আকাশী-নীল জার্সিটা গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামার এই শেষ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে বইছে এক বিষাদের সুর। গ্যালারি থেকে শুরু করে টেলিভিশন স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা প্রতিটি মানুষের চোখে আজ কৃতজ্ঞতা আর বিদায়ের অশ্রু।
ফুটবল বিধাতা হয়তো মেসির চিত্রনাট্যটি নিখুঁত করেই লিখেছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে একের পর এক ফাইনাল হেরে লালন করা হতাশা, দেশবাসীর ক্ষোভ, ফুটবল থেকে সাময়িক অবসর- সব পেরিয়ে সেই ছেলেই আবার ফিরে এসেছিলেন দেশকে বিশ্বজয়ের চূড়ায় নিয়ে যেতে। ২০২১ সালে মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়, ফিফা ফিনালিসিমা এবং ২০২২ সালে কাতারের মরুভূমিতে সেই মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ জয়। মেসি আর্জেন্টিনাকে শুধুই ট্রফি দেননি, দিয়েছেন এক যুগের কান্না মুছে দেওয়ার পরম স্বস্তি।
আজকের এই ৯০ মিনিট শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; এটি ফুটবলের এক মহাজাগতিক অধ্যায়ের ইতি টানা। মাঠের সবুজ ঘাসে যখন শেষ বাঁশিটি বাজবে, মেসি হয়তো অশ্রুসজল চোখে গ্যালারির দিকে হাত নাড়বেন। সেই সাথে শেষ হবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন এবং সোনালী এক ভ্রমণ।
ধন্যবাদ মেসি, আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে প্রতিটা ড্রিবলিং, প্রতিটা গোল আর অমূল্য সব মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য। ফুটবল হয়তো আরও অনেক তারকা দেখবে, কিন্তু আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে অন্য কোনো ‘লিওনেল মেসি’কে আর কখনোই দেখতে পাবে না বিশ্ব।


