বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা: আবারও সামনে হাই ভোল্টেজ লড়াই

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈরথ সবসময়ই বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই প্রতিবেশী দেশ, আর সে সুযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও চলে এসেছে এই লড়াই। দেশের ফুটবলের উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকায় ম্যাচটিকে ঘিরে রয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।
বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় দল সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল এ বছরের ২৫ মার্চ, এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে। সেদিন স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ লড়াই করে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজেরা। বাংলাদেশ প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলেছিল ১৯৮০ সালে কুয়েতে। এবার বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, হংকং ও সিঙ্গাপুর। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ মিলতো বাংলাদেশের। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর জাতীয় দলে যোগদান সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


আসছে ১৮ নভেম্বর ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হোম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর আগে ২৫ মার্চে অ্যাওয়ে ম্যাচে ভারতের মাঠেই নামতে হয়েছিল জামাল ভূঁইয়াদের। এই দুটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সমর্থকদের মাঝে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও প্রত্যাশার লড়াই। দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৩২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ভারত জিতেছে ১৬টিতে, বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ২ ম্যাচে এবং বাকি ১৪টি ম্যাচ ড্রয়ে শেষ হয়েছে। প্রথমবার বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে, যেখানে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে পরাজিত হয়। এরপর ১৯৮৮ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আবুধাবিতে দুই দল আবারও গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে।

বাংলাদেশের ভারতের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক জয় আসে ১৯৯১ সালের কলম্বো সাফ গেমসে রিজভি করিম রুমির দুর্দান্ত জোড়া গোলে। আর ১৯৯৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাঠমান্ডুতে সুপার সাব শাহাজউদ্দিন টিপুর দূরপাল্লার শটের মাধ্যমে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ঢাকায় ‘গোল্ডেন গোল’ নিয়মে ভারতের জাল কাঁপান মতিউর রহমান মুন্না, যা লাল-সবুজকে নিয়ে যায় ফাইনালে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ৫ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে মাত্র একটিতে, বাকিগুলো চারটি ম্যাচই ড্র হয়েছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাই বাংলাদেশকে দিচ্ছে নতুন আশার আলো, আর ১৮ নভেম্বরের ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *