বাংলাদেশ নেপাল ফুটবল  দ্বৈরথ…

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচগুলো বহুবার হৃদয়ভঙ্গের কারণ হয়েছে। প্রতিপক্ষের মান তুলনামূলক কম হলেও বারবার ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তিন যুগে ভাগ করা যায়:

চুন্নু-মুনিরাদের সময়ে নেপালের বিপক্ষে ১১ ম্যাচে ৫ জয়, ৪ হার। তবে হারগুলোর বেশিরভাগই ছিল হৃদয়বিদারক যেমন, ১৯৮৪ সাফ গেমসের ফাইনালে ১-৪ গোলে পরাজয়, ১৯৮৭ সাফ গেমসে গ্রুপ থেকে ছিটকে পড়া, এবং ১৯৯৩ সাফ গেমসে স্বাগতিক হয়েও গোলশূন্য বিদায়।

মূলত এশিয়ান ফুটবলের বিকাশ তখনও একটা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল এবং ঘুরে-ফিরে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলায় একটা সময় গিয়ে ১৯৮৫-১৯৮৯ সালের ভেতর কিছুটা ভালো লড়াইয়ে সক্ষম ছিল দল। তবে, এশিয়ান ফুটবলের অগ্রগতির সাথে তাল মেলাবার ব্যর্থতায়, পিছিয়ে থাকা দলগুলোর ক্রমোন্নতি এবং সোভিয়েত ব্লকের ৫টি দেশ এশিয়াতে যোগ দেবার পর স্বভাবতই আমরা পেছানো শুরু করি।

তবে, আলফাজ-আমিনুলদের যুগে বাংলাদেশ সমগ্র এশিয়ায় না হলেও, দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য করেছিল। এই সময়ে নেপালের বিপক্ষে টানা ৬ ম্যাচে জয় পায়, যার মধ্যে ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালে দুটি শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

মামুনুল-জাহিদদের প্রতিশ্রুতিশীল প্রজন্মের শুরুটা ভালো হলেও ২০১১ সালে নেপালের বিপক্ষে হারের পর ধীরে ধীরে পাল্টে যায় চিত্র। এরপর নেপাল নিয়মিতই বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠে- সাফ গেমস ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বারবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারায় বাংলাদেশকে। গোলকিপার সোহেলের একাধিক ভুল, অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট ইস্যু এবং দুর্বল টিম ম্যানেজমেন্টে দল পিছিয়ে পড়ে।

২০১১ সাল থেকে নেপালের বিপক্ষে ১৪ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ৩টিতে, হেরেছে ৫টিতে। যদিও সার্বিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে (৩১ ম্যাচে ১৪ জয়, ৯ হার), সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নেপালই বেশি ধারাবাহিক। তারা সাফ গেমসের শেষ দুই আসরে স্বর্ণ জিতেছে এবং এশিয়ান প্রতিযোগিতায়ও অগ্রগতি দেখিয়েছে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কিরণ কুমার লিম্বু সরাসরি বলেই দিয়েছেন তার দল হামজার বিপক্ষে খেলার জন্য মুখিয়ে আছে ।

বর্তমানে হামজা-সমিতদের আগমনে বাংলাদেশ কিছুটা ফেভারিট হলেও, স্থানীয় খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করলে নেপালই এগিয়ে। তাই বাফুফেকে প্রবাসী ফুটবলার অন্তর্ভুক্তি ও গ্রাসরুট উন্নয়নে ধারাবাহিক কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *