প্রথম ফিলিস্তিনি খেলোয়াড় হিসেবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেলবেন শামশৌম

শনিবারে এফএ ভেস কাপের কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ‘হোম অফ ফুটবল’ অল্ড ট্রাফোর্ডে। এই ম্যাচে অংশ নিচ্ছে ‘গ্রেট ওয়েকারিং রোভার্স’ এর ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক লুইস শামশাউম। এর মাধ্যমেই শামশাউম হতে যাচ্ছে ওয়েম্বলি তথা ‘ হোম অফ ফুটবল’ এ খেলা প্রথম ফিলিস্তিনি। এবং ২১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ফিলিস্তিন ফুটবল দলের হয়ে ৩ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। ফিলিস্তিনে চলা চলমান গনহত্যার ভুক্তোভোগী এই গোলরক্ষক ও। তিনি বলেন, “মর্মান্তিক এই অবস্থার মধ্যে ফিয়ে কেউই না যাক। আমি যে জাতীয় দলের স্কোয়াডে ছিলাম তাদের মধ্যে দুই সতীর্থের বাড়িঘর ধ্বংস করেছে এবং আমার প্রথম ডাকের একজন সতীর্থ বিনা অপরাধে পাথর নিক্ষেপের জন্য চার বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। আমার সহকারী ব্যবস্থাপক একটি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন এবং এটি খুবই ভয়ঙ্কর। এরা সবাই নিরপরাধ মানুষ এবং তারা কোনোভাবেই এই মর্মান্তিকতার প্রাপ্য নয়” শামসউম তার দাদা নোফালের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন।

নিজের পরিচয় নিয়ে গর্বিত এই খেলোয়াড় আরো বলেন, “আমার দাদা ১৯৪৬ সালে নাজারেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯৪৮ সালে ইস্রায়েলের সৃষ্টি শুরু হয়েছে। নাজারেতে আমার দাদা-দাদীকে অবৈধ সেটেলাররা জোর করে তাদের বাড়ি থেকে বের দেয় এবং পরে তারা লেবাননে আশ্রয় নেয়। আমার দাদার বয়স এখন ৭৮ এবং তার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নেই।” সবশেষে শামসউম বলেন, “আমি ভ্যাস সেমিফাইনালের জয়টা আমার পরিবারকে উৎসর্গ করেছিলাম এবং উদযাপনের সময় ফিলিস্তিনের পতাকা ধরে রেখেছিলাম যাতে দেখা যায় যে আমি এখানে এসেও তাদের কথা ভাবছি। আমি চাইলেও ফিলিস্তিনের জন্য অনেক কিছু করতে পারি না তবে আমার হৃদয়ে ফিলিস্তিন সবসময় আছে এবং সর্বদা ভাবনায় থাকে।”

শামশাউম নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন দেখান। তিনি আশা করছেন ওয়েম্বলিতে ওয়েকারিং এর সাথে তার এক জার্নির মাধ্যমে ফিলিস্তিন জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকও হতে পারে। “এখন পর্যন্ত আমি তিনবার ডাক পেয়েছি। একটি ছিল ওয়েস্ট এশিয়ান কাপের জন্য, একটি ছিল অনুঃর্ধ-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব এবং একটি ছিল প্রীতি ম্যাচ। কিছুদিন আগেও সবকিছু এতো কঠিন ছিলনা আর মোটামুটি চলছিল কিন্তু এখন এটা বেশ কঠিন। তবে আমি ওয়েম্বলিতে খেলা প্রথম ফিলিস্তিনি খেলোয়াড় হতে যাচ্ছি এবং আমি তাদের হয়েও খেলার সুযোগ পেতে চাই। এটা সত্যিই আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অনেক অর্থ বহন করবে।” শামশাউমের পরিবার ফাইনাল দেখার জন্য ওয়েম্বলিতে থাকবেন। উপস্থিত থাকবেন তার দাদাও যিনি এখন হ্যাডলিতে থাকেন।

এসকে/আরআই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *