আলফাজের ছায়াতলে লীগ শিরোপা উঠলো মোহামেডানের হাতে , দীর্ঘ ২৩ বছর পর নতুন মুকুটের দেখা পেল দলটি।
দীর্ঘ ২৩ বছরের জমানো প্রত্যাশা ও জল্পনা-কল্পনা বাস্তবে চিত্রায়িত করে অবশেষে বিপিএল ফুটবল ২০২৪-২৫ মৌসুমের জয়ের মুকুট হাতে পেল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ২০০৭ সালে শুরু হওয়া পেশাদার লিগে এটাই হবে সাদা–কালোদের প্রথম শিরোপা। এই শুভক্ষণের চিত্রায়িত জয়ের চিত্রকর হলেন দলটির প্রধান কোচ আলফাজ আহমেদ। তবে তিনি এই কৃতিত্ব দলের অন্যান্য স্টাফ সহ খেলোয়াড়দের প্রতি দেন।
পেশায় আলফাজ আহমেদ ছিলেন একজন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। খেলোয়াড়ি জীবনের অধিকাংশ সময়ই অতিবাহিত করেছেন মোহামেডান এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে। মাঠের লড়াইয়ে তিনি বেশিরভাগ সময় খেলেছেন স্ট্রাইকার হিসেবে।
১৯৯৪ সালে ঘরোয়া লীগে শেখ মনি আরামবাগের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি সিনিয়র পর্যায়ের ফুটবলে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে তিনি নাম লেখান মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খাতায়। মোহামেডানের হয়ে তিনি একটানা চার মৌসুম খেলেন এবং প্রথমবারেই দুটি লিগ শিরপা জয় করেন।
১৯৯৫ সালের ২৫শে মার্চে মাত্র ২১ বছর বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৯৫-দক্ষিণ এশীয় গোল্ড কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক করেছিলেন আলফাজ। উক্ত ম্যাচের ৬০তম মিনিটে মিডফিল্ডার মোহাম্মদ নুরুল মানিকের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাঠে নেমেছিলেন। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ১–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের জার্সি গায়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন ১৯৯৭ সালের ২৯শে মার্চে যেখানে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে খেলার সময় বাংলাদেশের হয়ে গোলটি করার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রথম গোলটি করেন।
বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারে সর্বমোট ৫২ টি ম্যাচে অংশ নেন আলফজ আহমেদ, গোল করেছেন সর্বমোট ১১ টি।
২০০৮ সালের ১৩ ই নভেম্বর বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিতে খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা থেকে অবসর নেন আলফাজ আহমেদ।
সিনিয়র লিগ ফুটবলে তিনি ২০০০-২০০১ মৌসুমে খেলেন ভারতীয় ক্লাব মোহনবাগানের হয়ে। সেখানে এক মৌসুম খেলার পর পুনরায় যোগদেন ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, শেখ রাসেল, আরামবাগ, ঢাকা আবাহনী এবং বিজেএমসির মতো ক্লাবের হয়ে খেলছেন।
সিনিয়র লিগে আলাফাজ আহমেদ তার ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুমটি(২০১২-১৩) অতিবাহিত করেছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। এরপর তিনি সবধরনের ফুটবল থেকে অবসর নেন। খেলোয়াড় হিসেবে বিভিন্ন দলের হয়ে আলফাজ সর্বমোট ১৩টি শিরোপা জয়লাভ করেছিলেন, যার মধ্যে ৭টি ঢাকা মোহামেডানের হয়ে, ১টি ঢাকা আবাহনীর হয়ে, ২টি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হয়ে, ১টি ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে এবং ২টি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে জয়লাভ করেছিলেন।
আলফাজ আহমেদ খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি ম্যানেজার এবং কোচ হিসেবেও ছিলেন প্রানবন্ত। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পর ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশী ফুটবল ক্লাব উত্তর বারিধারার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে ম্যানেজার হিসেবে ফুটবল জগতে অভিষেক করেন। তবে, সেখানে তিনি পুরো মৌসুম থাকেননি। একই বছর তিনি সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। তখন প্রধান কোচ হিসেবে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার শন লেন। ২০২২ সালে শন লেন চলে যাওয়ার পর মোহামেডানের হাল ধরেন শফিকুল ইসলাম মানিক। তার বিদায়ে ২০২৩ সালের মার্চে দলটির প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন আল্ফাজ আহমেদ। সাবেক এই তারকা ফরোয়ার্ডের কোচিংয়ে মোহামেডান ২০২২-২৩ মৌসুমের ফেডারেশন কাপ জিতে নেয়। এ মৌসুমের শুরুতে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ কাপ জয়ের আশাও জাগায় সাদাকালো জার্সিধারীরা। কিন্তু এগিয়ে গিয়েও পরে বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে যায় তারা।


