বয়সটা বাড়ছে সাকিবের

নামের পাশে ১৪০০০ এর বেশি রান, এই প্রজন্মের কোনো টপ ক্লাস ব্যাটসম্যানের নামের পাশে এমন রানসংখ্যা মানিয়ে যাবে। আবার সাড়ে ছয়শ’র বেশি উইকেট নেওয়া তো কোনো বোলারের জন্যও বিশাল ব্যাপার। এমন যদি হয় যে এই রান আর উইকেটের স্ট্যাট শুধু একজন ক্রিকেটারই, সাকিব আল হাসানের!

তাকে কি বিশেষণ দেওয়া যায়, অলরাউন্ডার…তাইনা? সাকিব তো একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। সমান তালে প্রায় দুই দশকের মতো সময় ধরে ব্যাটিং, বোলিং , ফিল্ডিং এ নিজের ছাপ রেখে গিয়েছে, লেট থার্টিজেও ধার কমেনি একটুও।গোটা একটা দেশকে নিজের কাঁধে নিয়ে বেড়ানো তাঁর অভ্যাস, বিশ্বায়নের যুগে টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা হয়ে এদেশ থেকে সেদেশে ঘুরে বেড়ান, কখনো কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার ডাক পান..প্রতিবার যখন খেলতে নেমট পারফর্ম করেন, তখন গোটা দেশ তার উপর গর্ববোধ করে। কোনো মানুষই পারফেক্ট না, সাকিব আল হাসান ব্যতিক্রম নয়। কখনো মেজাজ হারিয়ে ফেলার জন্য ব্যাড বয় বনে যান, আবার কখনো ম্যাচের আগের দিন শোরুম উদ্বোধন করতে যাওয়া নিয়ে কটাক্ষ সহ্য করতে হয়। সাকিব সবই দেখে, শোনে আর খেলার মাঠে এসে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে জবাব দেয়।শোরুম উদ্বোধন করে এসেও পরেরদিন ব্যাট – বল হাতে নিজেকে প্রমাণের নেশায় মত্ত থাকেন বলেই তিনি সাকিব আল হাসান, ক্রিটিসিজমকে কখনো গায়ে না মেখে নিজের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন দেখেই তিনি দেশের ইতিহাসের সফলতম ক্রিকেটার কয়েক মাইল ব্যবধানে, ১৭ বছরের লম্বা ক্যরিয়ার কিন্তু তার মতো কনসিসটেন্সি কেউই দেখাতে পারেনি।বাম হাতে বল করেন, বাম হাতে ব্যাট ধরেন।

আর্ম স্পিনার, বোলিং অ্যাকশন সাদামাটা কিন্তু স্ট্রিট স্মার্ট ক্রিকেটার সাকিব নিজের ভ্যারিয়েশন দিয়েই প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করেন, রান দেওয়ার বেলায় তার মতো মিতব্যয়ী বোলার তো কমই আছে। ব্যাট হাতে স্ট্রোকের বাহার নেই কিন্তু স্ট্রাইক রোটেট করার মতো বেসিক কাজটা তার মতো খুব কম ব্যাটসম্যানই অনায়াসে করে।রেকর্ড বুক ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন করতেই তার জন্ম। সাড়ে ছ’শ উইকেট, ১৪০০০ এর বেশি রান নেওয়া একমাত্র ক্রিকেটার তিনি; এক বিশ্বকাপে ৬০০+ রান, ১০+ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড আছে; অলরাউন্ডার তালিকায় তিন ফরম্যাটে একই সময়ে শীর্ষে থাকার বিরল রেকর্ড আছে তার; ছিলেন উইজডেনের, আইসিসির গত দশকের বিশ্বসেরা ওয়ানডে একাদশেও।

আসা যাওয়ার মিছিলে অনেকেই এসেছে, এসে হারিয়ে গিয়েছে না হয় নিজেকে হারিয়ে খুঁজে পেয়েছে কিন্তু এই একটা মানুষ দেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয় হয়েই থেকে গেছে বছরের পর বছর। অভিনয় করতে জানেন না, অথেন্টিসিটি ধরে রেখেই তিনি আলোচিত , সমালোচিত। তবুও দিনশেষে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। বয়স ছত্রিশ পেরিয়ে গিয়েছে। আর তো বেশিদিন নেই, একটু নাহয় উপভোগ করে নেওয়া যাক সাকিব আল হাসানকে। শুভ জন্মদিন, সাকিব!

এসকে/এমওয়াই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *