সাবেক ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার দিনেশ কার্তিক ২০০৭ সালে নিকিতা ভাঞ্জারা নামের একজনকে বিয়ে করেন। ঐ সময়টাতে ভারতীয় আরেক ক্রিকেটার মুরালি বিজয় ছিলেন কার্তিকের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তখন তারা দুজন রঞ্জী ট্রফির দল তামিলনাড়ুর হয়েই খেলতেন।
কিন্তু ২০১২ সালে কার্তিকের জীবনে নেমে আসর কালো অন্ধকার, একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সময় দিনেশ কার্তিক জানতে পারেন যে তার স্ত্রী নিকিতা এবং তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুরালি বিজয়ের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। মুরালি ও নিকিতার এই অবৈধ সম্পর্কের কথা জানার পর দিনেশ কার্তিক নিকিতার সাথে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন, এক পর্যায়ে কার্তিক নিকিতাকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।
এই ঘটনার পর দিনেশ কার্তিক ও মুরালি বিজয়ের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্বে চিরতরে ফাটল ধরে, এবং এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্ক তিক্ততায় পরিণত হয়।

অবাক করা বিষয় হলো কার্তিক নিকিতাকে ডিভোর্স দেওয়ার কয়েকমাস পরই নিকিতা ও মুরালি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। তখন কার্তিক তামিলনাড়ু টিমের ক্যাপ্টেন ছিলো, এতকিছু ঘটার পর কার্তিক ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে ভেঙে পরতে শুরু করে, মাঠের খেলায় ফোকাস করতে পরতেছিলো না, যার ফলে পারফরম্যান্সও ডাউন হতে লাগলো তার। একসময় তাকে দলের ক্যাপ্টেন্সি হারাতে হলে, তার থেকে ক্যাপ্টেন্সি কেড়ে নিয়ে বন্ধু থেকে শত্রু বনে যাওয়া মুরালীকে ক্যাপ্টেন্সি দেওয়া হলো। এটা কতটা যন্ত্রনাদায়ক ছিলো ভেবে দেখুন। এক পর্যায়ে কার্তিক চিন্তা করতেছিলেন সে ক্রিকেট খেলাটাই ছেড়ে দিবেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে কার্তিকের জীবনে আগমন হলো দীপিকা পাল্লিকেল নামের একজনের। কার্তিক যখন ক্রিকেট ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তখন তার সাথে পরিচয় হয় দীপিকার। দীপিকাও ছিলেন একজন অ্যাথলেট। দীপিকা ছিলেন ভারতীয় স্কোয়াশ প্লেয়ার। দীপিকা কার্তিককে ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রানিত করতেছিলেন। কার্তিকও সবকিছু থেকে বেরিয়ে পুনরায় জিমে যেতে শুরু করলেন, প্যাক্টিস করতে শুরু করলেন। কার্তিকও আবার মাঠের খেলায় ফিরলেন। সেই ফাকে কার্তিক ও দীপিকা ২০১৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
মনে পরে ২০১৮ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের কথা। হ্যা ঘুরে দাঁড়িযে ভারতীয় জার্সিতে ফিরে ঐ ট্রফি জেতানো ইনিংস খেলেছিলো কার্তিক।
মোরাল অফ দ্যা স্টোরি হলো, জীবনে চলার পথে কোনো মানুষকেই ততটা বিশ্বাস করতে নেই যাতে নিজেকে অস্তিত্ব সংকটে পরতে হয়। দ্বিতীয়ত আমরা খাদের কিনারায় পড়ে গেলে আমাদের জীবনেও একজন দীপিকার বড্ড দরকার হয়।
আমাদের চারপাশে বন্ধু রূপী এমনই কিছু মুরালি বিজয়ের বসবাস যারা সুযোগ পেলেই আপনার বুকে ছু*রি চালিয়ে দিতে এক সেকেন্ডও সময় নেবেনা। তাই সবাইকে বিশ্বাস করে বন্ধুত্ব নামক পবিত্র স্থান দিতে নাই। আর আমাদের সবারই চাওয়া থাকে কেউ একজন দীপিকা হয়ে আমাদের জীবনে আগমন হোক। যে কিনা আমাদের অগোছালো জীবনটা গোছাতে সাহায্য করবে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই এমন নসিব নিয়ে জন্মায় না। তাই নিজের জন্য হলেও নিজের ভালো থাকা নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে।


