এশিয়ান কাপ ২০২৭ বাছাই পর্বে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল খেয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে হার মানেনি জামাল-হামজারা। নতুন উদ্যমে আগামী ১৪ অক্টোবর কাই তাক স্পোর্টস পার্কে ফিরতি লেগে আবার মুখোমুখি হবে এই দুই দল। ম্যাচটি এখন বাংলাদেশের জন্য মর্যাদা ও আত্মপ্রত্যয়ের লড়াই।
৯ অক্টোবরের ম্যাচে বাংলাদেশের ফুটবলাররা লড়েছেন মন জয় করা ফুটবল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে ছিল লাল-সবুজরা। ১৩ মিনিটে হামজা চৌধুরীর দারুণ ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে হংকংয়ের এভারটন ক্যামারগো গোল করে ম্যাচে ফেরায় তার দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে হংকংয়ের গোলবন্যা রুখতে পারেনি বাংলাদেশ। রাফায়েল মার্কিস ৫০, ৭৫ তম মিনিটে ১টি করে গোল করেন এবং ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত মিনিটে আরেকটি গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। যদিও বাংলাদেশের হয়ে শেখ মোরসালিন ও শামিত শোম একটি করে গোল করে ম্যাচে ফেরার লড়াই চালিয়ে যান, তবে শেষ পর্যন্ত শেষ মুহূর্তের সেই মার্কিসের গোলেই হারের স্বাদ নিতে হয় বাংলাদেশকে।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ জাভিয়ের ক্যাব্রেরা বলেন,
“আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু শেষ মুহূর্তে মনোযোগ হারিয়েছি। এই ভুলের জন্যই জয়ের ম্যাচ হারতে হলো।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“রক্ষণভাগে সামান্য ভুল আমাদের বড় ক্ষতি করেছে। তবে দল আত্মবিশ্বাস হারায়নি, পরের ম্যাচে আমরা আরও শক্তভাবে ফিরব।”
বাংলাদেশ দল ১০ অক্টোবর রাতেই হংকংয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। হংকংয়ের কাই তাক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি তাদের জন্য শুধু পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং আত্মপ্রমাণের সুযোগ। কোচ ক্যাব্রেরার কৌশল এবার আরও রক্ষণাত্মক হলেও, তিনি উইং আক্রমণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ (কাউন্টার অ্যাটাক) ব্যবহারে জোর দেবেন বলে জানা গেছে।

হংকং বর্তমানে গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে। তাদের ফরোয়ার্ড রাফায়েল মার্কিস দারুণ ফর্মে আছেন, শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন। ঘরের মাঠের সমর্থনও তাদের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে উঠবে। তবে কোচ জর্নি অ্যান্ডারসনও জানেন, বাংলাদেশের আক্রমণভাগ বিপজ্জনক হতে পারে। মোরসালিন ও হামজার সমন্বয় যদি কার্যকর হয়, তবে তাদের রক্ষণভাগের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
গত পাঁচ মুখোমুখি লড়াইয়ে হংকং জিতেছে ৩ বার, ড্র হয়েছে ২টি ম্যাচে। বাংলাদেশ এখনো জয় পায়নি। তবে ৯ অক্টোবরের ম্যাচে বাংলাদেশের ৩ গোলই প্রমাণ করেছে যে, তারা লড়াইয়ের যোগ্যতা রাখে। বাংলাদেশ দলের সামনে এবার একটাই লক্ষ্য- ভুল শুধরে জয় নিয়ে আসা। হংকংয়ের মাঠে জয় পাওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। যদি দলীয় শৃঙ্খলা, চৌকশ রক্ষণ, দৃঢ়তা এবং মোরসালিন-হামজার সৃজনশীলতা একসাথে কাজ করে, তবে লাল-সবুজদের জন্য ইতিহাস গড়ার দরজা এখনো খোলা।


