১০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার এক অবিস্মরনীয় মাইলফলক সাকিব আল হাসানের সামনে…

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছেন সাকিব আল হাসান। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোরও নিয়মিত মুখ এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এবার তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক অনন্য রেকর্ডের সামনে এক ক্যালেন্ডার বছরে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সাকিবের সামনে।

বিশ্ব ক্রিকেটে এমন নজির এখনো দেখা যায়নি। সাধারণত কোনো ক্রিকেটার বছরে চার থেকে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে অংশ নিলেই তা ব্যস্ত সূচি হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সাকিবের মতো তারকা খেলোয়াড়ের জন্য বিশ্বজুড়ে চাহিদা এতটাই তীব্র যে, প্রায় প্রতিটি মহাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাকে দলে নিতে আগ্রহী।

২০২৫ সালের শুরু থেকেই সাকিবের ব্যস্ত সূচির শুরু হয়। তিনি খেলেছেন পিএসএল, কানাডা গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, কানাডা সুপার সিক্সটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ও মাইনর লিগ ক্রিকেট। সামনে রয়েছে আরও কিছু টুর্নামেন্ট- আবুধাবি টি টেন লিগ, গ্লোবাল ক্রিকেট লিগ এবং ইন্ডিয়ান হেভেন লিগ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বছরের শেষ নাগাদ তিনি মোট ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নেবেন, যা হবে ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।

বিশ্বব্যাপী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সাথে সাথে সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ও দক্ষ অলরাউন্ডারের চাহিদা বহুগুণে বেড়েছে। বামহাতি এই স্পিনার যেমন বল হাতে কৃপণ, তেমনি ব্যাট হাতে ম্যাচ শেষ করার ক্ষমতাও রাখেন। তার অলরাউন্ড দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং বিশাল অভিজ্ঞতা ফ্র্যাঞ্চাইজি টিমগুলোর কাছে তাকে এক ‘সম্পূর্ণ প্যাকেজ’ বানিয়েছে।

সাকিব নিজেও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন,
“আমি চেষ্টা করি যেখানেই খেলি, সেরাটা দিতে। এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মান অনেক বেড়ে গেছে। এটা শুধু বিনোদন নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমান চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাকিবের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এক বিশাল স্বীকৃতি। কারণ, তার এই বিশ্বজোড়া উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *