বাংলাদেশের ক্রীড়া ও খেলাধূলার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে (১৯৯১-১৯৯৬) এবং (২০০১-২০০৬) ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক বিকাশে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রথমত, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্রীড়াকে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তাঁর সময়কালে ক্রীড়া সংগঠনগুলোর প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন ফেডারেশন ও সংস্থাকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণের পথ কিছুটা সুগম হয়। তার শাসনামলে বাংলাদেশ সাফ গোল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল-২০০৩ এ চ্যাম্পিয়ন হয়। এমনকি, বাংলাদেশ ১৯৯৭ এর আইসিসি ট্রফি জেতার পর দল ক্ষমতায় না থাকলেও শুধুমাত্র পৃষ্ঠপোষকতার জায়গা থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে সংবর্ধনা দিয়েছিল বিএনপি।
দ্বিতীয়ত, অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর সরকারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র কথা না বললেই নয়। বাফুফের সহসভাপতির দায়িত্বে থেকে ফুটবলকে তৃনমূল পর্যায় থেকে পেশাদার পর্যায় পুরোটাতেই নিয়ে এসেছেন আধুনিকতার ছোয়া। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্টেডিয়াম, খেলার মাঠ ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে করে গ্রাম ও জেলা পর্যায়ে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ে। ক্রিকেটেও তার অসামান্য ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে পেশাদার ক্রিকেটকে কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে জেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, হোম গ্রাউন্ড মিরপুরে স্থানান্তর করা এবং সর্বপোরি বয়সভিত্তিক খেলা থেকে শুরু করে পেশাদার পর্যায়ে যুগের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে আধুনিকায়ন করা সহ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের খেলাকে আলোকিত করে তুলে আপ্রান চেষ্টায় তার কোনো ত্রুটি ছিল না। যার ফলস্বরুপ আমরা আজকের বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এরকম পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।
তৃতীয়ত, ক্রিকেট, ফুটবলসহ জনপ্রিয় খেলাগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় দলগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বমুখী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একইসাথে নারী খেলোয়াড়দের খেলাধূলায় সমানতালে অংশগ্রহণ এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করনে তার সরকারের কোনো তুলনা নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও স্বাধীনতা পরবর্তী অবস্থায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নিরলস শ্রম দিয়েছেন। স্বপ্ন দেখেছেন বাংলাদেশকে বিশমঞ্চে তুলে ধরার এবং তার কিছুটা তিনি করেও গেছেন যা পরবর্তীতে তার সুযোগ্য উত্তরসুরীগণ করেছেন।
সবশেষে বলা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের ক্রীড়া ও খেলাধূলা এমন একটি ভিত্তি লাভ করে, যার ওপর দাঁড়িয়ে পরবর্তী সময়ে আরও সাফল্য অর্জনের পথ তৈরি হয়। তাঁর অবদান বাংলাদেশের ক্রীড়ার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।


