২০২৬ সাল যেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের এক মহামিলনমেলা। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি থেকে শুরু করে বহুজাতিক গেমসসহ নতুন বছরজুড়ে অপেক্ষা করছে একের পর এক বড় আয়োজন। খেলাধুলাপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে স্মরণীয় এক বছর, যেখানে বাংলাদেশের উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে প্রত্যাশার মাত্রা।
বছরের সূচনা হবে ক্রিকেটের রঙিন সংস্করণ দিয়ে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ২০ দলের এই বিশাল আসরে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইতালি, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখছে ইউরোপের এই দল।
মার্চ মাসের শুরুতেই ফুটবলে নতুন অধ্যায়। ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় গড়াবে নারী এশিয়ান কাপ ফুটবল, যেখানে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে বাংলাদেশ নারী দল, যা দেশের নারী ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সেই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে নারী অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ, সেখানেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বার্তা।

বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আয়োজন অবশ্যই ফুটবল বিশ্বকাপ। ১১ জুনে মাঠে গড়াবে ফিফা বিশ্বকাপ, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। অনেকের চোখ থাকবে আরেকটি আবেগী প্রশ্নে- হয়তো এটাই হতে পারে বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষবারের মতো লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ।
ফুটবলের উন্মাদনা কাটতে না কাটতেই আগস্টে হকির মহাযজ্ঞ। ১৪ আগস্ট বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত হবে হকি বিশ্বকাপের ১৬তম আসর। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গন মুখরিত হবে মহাদেশীয় গেমসে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরে শুরু হবে এশিয়ান গেমস, যেখানে ৪১টি ডিসিপ্লিনে পদকের লড়াইয়ে অংশ নেবে বাংলাদেশসহ ৪৫ দেশের প্রায় ১৫ হাজার অ্যাথলেট। পরের মাস অক্টোবরে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে প্যারা এশিয়ান গেমস।
বাংলাদেশ ফুটবলের জন্যও ২০২৬ হতে পারে বিশেষ কিছু। পিছিয়ে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল টুর্নামেন্টটি চলতি বছরেই আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো সূচি ও স্বাগতিক চূড়ান্ত হয়নি, তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে অবশ্য ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এশিয়ান কাপের ব্যর্থ মিশন।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ব্যস্ত সূচীতে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি বড় আয়োজন- কমনওয়েলথ গেমস। ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হবে এই ২৩ তম আসর, যেখানে চারটি ভেন্যুতে ১১টি ডিসিপ্লিনে হবে প্রতিযোগিতা।
ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে ব্যস্ত এক বছর। ঘরের মাঠে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে টাইগাররা। অন্যদিকে অ্যাওয়ে সফরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা, যা পারফরম্যান্স পরীক্ষার বড় সুযোগ।
এছাড়াও বছরের ক্রীড়া বিনোদনে নিয়মিত আকর্ষণ হয়ে থাকবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, যার ৭১তম আসরের পর্দা নামবে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে। এছাড়াও এবছর বরাবরের মতই থাকছে গ্রাঁ প্রি, ফর্মুলা ওয়ান, সুপার বোল ও টেনিসের বিভিন্ন গ্র্যান্ড আসর। সব মিলিয়ে, ২০২৬ শুধু বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নয়, বাংলাদেশের ক্রীড়াযাত্রার জন্যও হতে পারে সম্ভাবনা, স্বপ্ন আর ইতিহাস গড়ার এক ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বছর।


