ডিফেন্ডার থেকে গোলদাতা: তপু বর্মনের ৮ গোলের আদ্যোপান্ত

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী তপু বর্মন। তবে শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ নন তিনি, সুযোগ পেলেই বল জালে জড়িয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। সম্প্রতি ৫ জুন, ২০২৬ তারিখে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচে জাদুকরী জোড়া গোল করে তিনি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা ডিফেন্ডার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন। লাল-সবুজের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তপু বর্মনের জাদুকরী ৮টি গোলের সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুল বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

৭ম আন্তর্জাতিক গোল: 

সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা তপু বর্মন আক্রমণভাগে উঠে এসে ১৮তম মিনিটে প্রথম গোলটি করেন। এই নিখুঁত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে তিনি দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন।

৮ম আন্তর্জাতিক গোল: 

ম্যাচ যখন শেষের দিকে এবং টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ৮৫তম মিনিটে তপু বর্মন তার জাদুকরী দ্বিতীয় গোলটি করেন। এই গোলটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে একটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় জয় এনে দেয়।

পূর্ববর্তী ৬টি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক গোল

১. বনাম ভুটান (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৫):

তপু বর্মনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল এটি। আঞ্চলিক এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে ভুটানের বিপক্ষে গোল করে তিনি জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলস্কোরিং খাতা খোলেন।

২. বনাম ভুটান (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৮):

ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে ভুটানের রক্ষণভাগ ভেঙে আরও একবার লক্ষ্যভেদ করেন এই বিশ্বস্ত ডিফেন্ডার।

৩. বনাম পাকিস্তান (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৮):

২০১৮ সালের একই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গোল করে দলকে জয়ী করতে বড় ভূমিকা রাখেন।

৪. বনাম আফগানিস্তান (২০২১): 

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে এটিই ছিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে তপুর অন্যতম সেরা ও গুরুত্বপূর্ণ গোল। শক্তিশালী আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাছাইপর্বের এই ম্যাচে তার গোলটি বাংলাদেশকে মূল্যবান পয়েন্ট এনে দিয়েছিল।

৫. বনাম শ্রীলঙ্কা (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২১):

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করেন তপু। তার এই একক গোলই ম্যাচটিতে বাংলাদেশের ১-০ ব্যবধানের জয়সূচক গোল ছিল।

৬. বনাম মালদ্বীপ (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২১):

মালদ্বীপের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে চমৎকার একটি গোল উপহার দেন তিনি।

সাধারণত রক্ষণভাগ সামলানোই একজন ডিফেন্ডারের প্রধান কাজ হলেও, সেট-পিস কিংবা কর্নার থেকে আক্রমণভাগে তপু বর্মনের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য সবসময়ই আতঙ্কের। ৮টি আন্তর্জাতিক গোল করে তিনি নিজেকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘গোলস্কোরিং ডিফেন্ডার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সান মারিনোর বিপক্ষে এই জোড়া গোল তার ক্যারিয়ারে এবং বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *