৩৯-এ পা দিলেন লিও মেসি, মহাজাগতিক এক ফুটবল মহাকাব্যের ব্যবচ্ছেদ…

আজ ২৪ জুন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাদুকর লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর থেকে শুরু হওয়া এক সাধারণ বালকের গল্প আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাকাব্যে পরিণত হয়েছে। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় ভোগা সেই ছোট্ট লিও সব বাধা জয় করে আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা।

​ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়েও তিনি যেভাবে ফুটবল বিশ্বকে মোহিত করে রাখছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ​লিওনেল মেসির পুরো ক্যারিয়ারকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, তিনি সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বারবার ভেঙে গড়েছেন। একজন ফুটবলারের বিবর্তন কেমন হওয়া উচিত, মেসি তার আদর্শ উদাহরণ।

​দ্য ডেসট্রয়ার (২০০৪-২০১২): ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মেসি ছিলেন উইং দিয়ে ঝড় তোলা এক গতিদানব। পেপ গার্দিওলার অধীনে ‘ফলস নাইন’ পজিশনে এসে তিনি হয়ে ওঠেন গোলের মেশিন। ২০১২ সালে এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে ৯১ গোল করার যে রেকর্ড তিনি গড়েছিলেন, তা আধুনিক ফুটবলে অবাস্তব বললেও কম বলা হয়।

​দ্য প্লে-মেকার (২০১৫-২০২১): বয়স বাড়ার সাথে সাথে যখন স্বাভাবিক গতি কিছুটা কমতে শুরু করল, মেসি নিজের ড্রিবলিংয়ের ধার বজায় রেখেই হয়ে উঠলেন মাঠের প্রধান নির্দেশক (Midfield Maestro)। বার্সেলোনার শেষ বছরগুলোতে এবং পিএসজিতে তিনি গোল করার চেয়ে গোল করানোর কারিগর হিসেবে বেশি আলো ছড়ান।

​দ্য ইমমর্টাল লিডার (২০২১-বর্তমান): ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে মেসি অর্জন করেছেন তার দীর্ঘদিনের অধরা স্বপ্ন-আন্তর্জাতিক ট্রফি। ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং সবশেষে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে তিনি ফুটবলীয় বৃত্ত সম্পূর্ণ করেছেন।

বিশ্লেষকরা প্রায়ই একটি মজার তথ্য শেয়ার করেন- “মেসি মাঠে দৌড়ানোর চেয়ে হাঁটেন বেশি”। কিন্তু এই হাঁটার পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর ফুটবলীয় জ্যামিতি।
​ডেটা অ্যানালিটিক্স দেখায় যে, ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিট মেসি মূলত প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের অবস্থান এবং মাঠের ফাঁকা জায়গা (Spaces) স্ক্যান করেন। তার এই ‘স্পেশাল অ্যাওয়ারনেস’ বা স্থানিক সচেতনতা এতই তীব্র যে, প্রতিপক্ষ টের পাওয়ার আগেই তিনি পাসিং লেন তৈরি করে ফেলেন।

৩৯ বছর বয়সে এসে মার্কিন মুলুকের ইন্টার মায়ামিতে খেললেও, ফুটবলের প্রতি তার তাড়না কমেনি। তিনি প্রমাণ করেছেন যে ফুটবল শুধু পেশিশক্তি বা গতির খেলা নয়; এটি আসলে বুদ্ধিমত্তা, নিখুঁত টাইমিং এবং জাদুকরী স্পর্শের শিল্প।

আজকের এই বিশেষ দিনে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের একটাই প্রার্থনা- এই মহাজাগতিক মহাকাব্যের শেষ বাঁশি যেন আরও কিছুটা দেরিতে বাজে। শুভ জন্মদিন, লিওনেল মেসি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *