২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও হোঁচট খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রাউন্ড অব ১৬-এর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হয়ে সেলেসাওদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং অদম্য আক্রমণভাগ নিয়ে মাঠে নামলেও, রাউন্ড-১৬ এর লড়াইয়ে এসে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় কপাল পুড়ল ব্রাজিলিয়ানদের। নির্ধারিত সময় শেষে হতাশাজনক হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
ব্রাজিলের এই বিদায় দীর্ঘদিনের অধরা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে আরও ধূসর করে তুলল। বিশেষ করে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের জন্য এই বিশ্বকাপ ছিল সম্ভবত শ্রেষ্ঠ মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের শেষ সুযোগ। রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ গোলের পরাজয় কেবল একটি দলের বিদায় নয়, এটি ছিল নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। ম্যাচ শেষে চোখের জলে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। যেখানে ২০১০ সালে তিনি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, ১৬ বছর পর সেই একই স্টেডিয়ামে সবকিছুর ইতি টানলেন এই কিংবদন্তি। চোটজর্জর ক্যারিয়ার এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও, ৮৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি তার শেষ ম্যাচটিকে নিজের ঐতিহ্যের সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন।
নেইমারের এই বিদায় কেবল পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে লিখে রেখেছেন। যদিও পেলের উত্তরসূরি হিসেবে তাকে বারবার বিশ্বকাপের ট্রফির মাপকাঠিতে বিচার করা হয়েছে, তবুও তার শৈল্পিক ফুটবল এবং মাঠের প্রতিটি পদচারণায় তিনি কোটি ভক্তের হৃদয়ে যে জায়গা করে নিয়েছেন, তা অদ্বিতীয়। কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্কোয়াডে তাকে ফিরিয়েছিলেন অভিজ্ঞতার আলো পেতে, কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তা সফল হয়নি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের এমন অকাল বিদায় দেশটিতে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের চেয়ে প্রতিপক্ষের কৌশলগত সংহতি শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয়েছে বড় ব্যবধানে। অভিজ্ঞ কোচ এবং খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি কেন বড় ম্যাচে এসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে, তা নিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে বিস্তর কাটাছেঁড়া ও সমালোচনা।
প্রতিবারই বড় স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও নকআউট পর্বের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারের মতো একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের উপস্থিতিতেও এমন পরিণতি তাদের ফুটবলের বর্তমান কাঠামো ও প্রস্তুতির ঘাটতিকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এই পরাজয় কেবল একটি ম্যাচ হার নয়, বরং ফুটবলের পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এক বড় ধাক্কা।
এখন ব্রাজিল ফুটবলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপের এই হতাশা ঝেড়ে ফেলে কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে ২০৩০ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে নতুন করে দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনকে। নেইমারহীন ব্রাজিল কেমন হবে, তা এখন প্রশ্নসাপেক্ষ, তবে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।


