এ যেন শেকড়ের টান, ইংলিশ ফুটবলে সুনাম কুড়িয়ে দেশের ফুটবলে প্রত্যাবর্তন করলেন হামজা চৌধুরী

রাকিবুল হাসান: বাংলাদেশের ফুটবলে লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নামবেন হামজা চৌধুরী। গত ১৭ই মার্চ, বেলা ১২টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন হামজা চৌধুরী। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সেদিন সকাল থেকেই দারুন উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। তাকে বরন করে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা দেওয়ান মোরশেদ চৌধুরী, সেই সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন বাফুফের নির্বাহী সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভুইয়া শাহীন, কামরুল ইসলাম হিল্টন, গোলাম গাউস, ইকবাল হোসেন, সত্যজিৎ দাশ রুপু, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, মন্জুরুল করিম ও সিলেটের ফুটবলপ্রেমীরা। এই প্রথম তিনি স্ত্রী-সন্তান সমেত দেশে আসলেন, তাই সরাসরি ঢাকায় না এসে সিলেটে বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটে নিজের পৈত্রিক নিবাসে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন হামজা। বিকেল ৪টার দিকে হামজা চৌধুরীর গাড়িবহর বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের ফুল দিয়ে দেশীয় সংস্কৃতিতে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা।

হামজা চৌধুরী ১৯৯৭ সালের ১ অক্টোবর ইংল্যান্ডের লেস্টারশায়ারে জন্ম গ্রহণ করেন। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মুসলিম পরিবারে নিজের মাতা-পিতার কোলে বেড়ে ওঠেন হামজা এবং শৈশব থেকেই তিনি বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে সিলেটি ভাষায় কথা বলতে পারেন। তিনি মূলত একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর এটি নিশ্চিত করে যে হামজা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫ মার্চ, ২০২৫ এ অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৭ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচে মাঠে নামবেন তিনি। ছোট বেলা থেকেই বাংলাদেশের প্রতি অন্যরকম টান ছিল হামজার। তাকে দেশের জার্সিতে খেলতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তার বাবা। তার স্বপ্ন পূরণ এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। দেশের ক্রিকেটাঙ্গন থেকেও ভালোবাসা ও শুভকামনা পেয়েছেন হামজা। জাতীয় দল থেকে সদ্য অবসর নেওয়া মুশফিকুর রহিম সহ তাকে অভিবাদন জানিয়েছেন আরো অনেকেই।

দেশের ফুটবলের সামগ্রিক অগ্রগতি ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবলকে আলোকিত করতে হামজা চৌধুরীকে নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের রয়েছে আকাশ সমান প্রত্যাশা। নেটিজেনরাও ব্যাপারটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

এসকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *