বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল দ্বৈরথ

২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামী ২৫ মার্চ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের জহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

বাংলাদেশ-ভারত এর মধ্যকার ম্যাচগুলো অনেক হাই ভোল্টেজের বলে বিবেচিত হয়ে থাকে খেলাপ্রেমীদের কাছে। সে হিসেবে খুব কম সময়ের ব্যাবধানেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের ফুটবল। বাংলাদেশ সিনিয়র পুরুষ ফুটবল দল ভারতের সাথে তাদের সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে ২০১৯ সালে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে্র সেই ম্যাচে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল লাল-সবুজেরা। বাংলাদেশ মূলত একবারই এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলেছিল ১৯৮০ সালে, কুয়েতে। এবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপে খেলবে তারা। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে ভারত, হংকং ও সিঙ্গাপুর। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। সদ্য প্রত্যাবর্তন করা হামজা চৌধুরী লাল-সবুজ জার্সি গায়ে বাংলাদেশ দলে থাকছেন বলে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের খেলা নিয়ে খুবই আশাবাদী সমর্থকেরা।

আগামী ২৫ মার্চ ভারতের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আর ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশে খেলতে আসতে হবে ভারতকে। মূলত এই দুইটি ম্যাচ নিয়ে দুই দেশের ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে চলছে কথার ছোড়াছুড়ি। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২৮ টি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে যার মধ্যে ৩ টিতে জয়লয়াভ করে বাংলাদেশ, ১৩ টিতে জয় পায় ভারত এবং বাকি ১২ টিতে ড্র হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে, যেখানে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-০ গোলে। ১৯৮৮ সালে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল বাংলাদেশ। আবুধাবিতে আয়োজিত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম জয়ের দেখা পায় ১৯৯১ সালের কলম্বো সাফ গেমসে যেখানে রিজভি করিম রুমির জোড়া গোলে দূর্দান্ত এক জয় পায় বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে সুপার সাব হিসেবে শাহাজউদ্দিন টিপু মাঠে নেমেই দূরপাল্লার শটে গোল করেছিলেন। সে গোলেই ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ গেমস ফুটবলে সোনার পদক জয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ঢাকায় গোল্ডেন গোলে ভারতের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে এনেছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে সপ্তম মিনিটে মতিউর রহমান মুন্নার গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।বাংলাদেশের সাথে সবশেষ তিনটি ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি ভারত। ২০১৩ সালে কাঠমান্ডুর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ২-২ গোলে ড্র হয়, এরপর ২০১৪ সালে গোয়ায় প্রীতি ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয় এবং সর্বশেষ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *