বাংলাদেশের দাবা অঙ্গনে নতুন সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে মাত্র ১৩ বছর বয়সী ওয়ার্শিয়া খুশবু। বয়সে কিশোরী হলেও সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক জয়, যা তাকে বাংলাদেশের দাবার ইতিহাসে এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
খুশবুর দাবার যাত্রা শুরু ছোটবেলাতেই, ২০১৮ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে দাবার বোর্ডে তার প্রথম পদচারণা। সেই বছরেই থাইল্যান্ডের যুব দাবা প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-৬ বিভাগে জয় করেন ১টি স্বর্ণপদক ও ২টি রৌপ্যপদক। এত অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক পদক জয় তাকে দেশ-বিদেশে আলোচনায় নিয়ে আসে। শুরুতেই এমন অনবদ্য সাফল্য সময়ের সাথে সাথে তাকে এনে দেয় নানান পদকের এক ঝলমলে সংগ্রহ। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। শ্রীলঙ্কা, উজবেকিস্তান, মালদ্বীপ ও ভারতের মাটিতে লড়াই করে সংগ্রহ করেছেন আরও ৬টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য এবং ২টি ব্রোঞ্জ পদক। ২০২৩ সালে উজবেকিস্তানে এশিয়ান স্কুল দাবায় উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড অনূর্ধ্ব-১১ বিভাগে স্বর্ণপদক ও র্যাপিড বিভাগে রৌপ্যপদক জেতেন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে।

জাতীয় অঙ্গনে সাফল্য
দেশীয় মঞ্চেও খুশবু দেখিয়েছেন সমান আধিপত্য;
জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৪ বালিকা চ্যাম্পিয়ন, ২০২৪
জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ রানারআপ, ২০২৩
জাতীয় মহিলা দাবাড়ু ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন এশিয়ান দাবায় র্যাপিড ও ব্লিটজ উভয় বিভাগে জয় করেন রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক। আর সবশেষে দাবার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (FIDE) তাকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহিলা ফিদে মাস্টার (WFM) খেতাব। বর্তমানে খুশবুর স্ট্যান্ডার্ড রেটিং ২১৪৫, যা বাংলাদেশের সব মহিলা দাবাড়ুর মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশের ওপেন (পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে) দাবাড়ুদের মধ্যেও ১৩তম স্থানে অবস্থান করছেন।
ওয়ার্শিয়া খুশবু আজ বাংলাদেশের দাবা অঙ্গনে শুধু এক প্রতিভাবান কিশোরী নয়, বরং এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম। তার এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ থেকেও জন্ম নিতে পারে বিশ্বমানের দাবাড়ু।


