বলিভিয়া- লাপাজ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতায় অবস্থিত স্টেডিয়ামসমূহ

বলিভিয়া এক বৈচিত্র্যেময় সুন্দর দেশ যাকে কিনা ল্যাটিন আমেরিকার হৃদয় বলা হয় । পাহাড়ের হাতছানি, অ্যামাজনের অপরূপ সৌন্দর্য্য, পৃথিবীর একমাত্র লবণের মরুভূমি সবকিছু মিলে বলিভিয়া এক অনন্য অসাধারন অপরূপ দেশ।
বলিভিয়ার ফুটবল নিয়ে কথা আসলেই সবার প্রথম মাথায় আসে লাপাজ এর কথা যেটি কিনা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতায় অবস্থিত । মনে পড়ে আর্জেন্টিনার ৬ গোলে হারার কথা । বলিভিয়া এখন পর্যন্ত তিনবার ফুটবল বিশ্বকাপ খেললেও ১৯৯৪ এর পর আর তাদের দেখা মিলেনি।
আজ আমরা কথা বলবো বলিভিয়ার বিভিন্ন স্টেডিয়াম বিশেষ করে যেগুলো খুব পরিচিত সেইগুলো নিয়ে কথা বলবো বলিভিয়া এর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত স্টেডিয়ামগুলো নিয়ে।
বলিভিয়ার বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য স্টেডিয়ামগুলো হলো- এল এস্তাদিও রামন আগেলিরা কোস্টাস , এল সুদ আমেরিকানো ফেলিক্স ক্যাপ্রিলেস, এস্তাদিও ভিক্টর অগাস্টিন উগারতে, এস্তাদিও অলিম্পিকো পাত্রীয়া, এস্তাদিও কৌয়াত্র সেন্টেনারিও, এস্তাদিও খেসুস বারমুডেজ, এস্তাদিও মিউনিসিপাল দে ভিইয়া ইনখেনিয়ো , এবং বলিভিয়ার ফুটবলের প্রথম দৃশ্য এর স্টেজ এস্তাদিও হার্নান্দো সিলেস যেটি ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত ,এটা সমদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

ক্লাব বলিভার, সূত্র- ইন্টারনেট


ফিফা ২০০৭ সালে লাপাজ এর ২৭০০ মিটার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতায় প্রফেশনাল ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল । তখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস মারাদোনাকে নিয়ে একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজন করেছিলো যেখানে প্রেসিডেন্ট নিজেও খেলেছিল । মারাদোনা সেদিন বলেন – আমরা ফিফাকে দেখিয়েছি যে এই মাঠে দৌড়ানো যায় , আপনি দৌড়াতে পারবেন।
এমন কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত নিবেন না কারন এটা তাদের মাঠ । আপনারা আসেন এখানে , তাদের আবেগ নিয়ে খেলবেন না , তারা তাদের মাঠে খেলতে চায়, আমরা , আর্জেন্টাইনরা, আমি আর্জেন্টাইনদের পক্ষে বলতেছি যে আমাদের এখানে খেলার জন্য কোনো ভয় নাই ! আমাদের কোনো ভয় নেই । আপনাদেরকে খেলতে হবে যেখানে আপনারা জন্মেছেন ভাইয়েরা , আর এটা সৃষ্টিকর্তাও নিষিদ্ধ করতে পারে না , গোরা/ সাদা মানুষরাতো অবশ্যই না । শুভ বিকাল সবাইকে।
পরবর্তীতে ফিফা তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং লাপাজে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হতে থাকে ।
এল এস্তাদিও হের্নান্ডজ সেইয়েস, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬০০ মিটার উপরে লাপাজে অবস্থিত । এই স্টেডিয়ামটি ১৯২৭ সালে তৈরি হয়েছিলো আর ১৯৩০ সালে উদ্বোধন করা হয় প্রেসিডেন্ট হের্নান্ডজ সেইয়েস এর মাধ্যমে ।১৯৬৭ সালে মূলত পরিচিতি পায় ল্যাটিন আমেরিকার খেলাধুলার একটি ইভেন্ট আয়োজন করার মধ্য দিয়ে যেখানে বলিভিয়া ছিলো আয়োজক দেশ । এই বিশাল আকৃতির স্টেডিয়ামটি বলিভিয়ার ফুটবলের হেডকোয়াটার হিসাবে ধরা হয় যেখানে ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের খেলা হয় । এছাড়া এটা বলিভিয়ার ও স্ট্রংগেস্ট ক্লাব তাদের মাঠ হিসাবে ব্যবহার করে থাকে এবং এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারন ক্ষমতা হলো ৪২০০০/৪৩০০০ পর্যন্ত।

এস্তাদিও হার্নান্দেজ সিলেস, সূত্র- ইন্টারনেট

বর্তমান সময়ে লাপাজে বিভিন্ন প্রফেশনাল ক্লাবের বিভিন্ন মাঠ রয়েছে তবে তার মাঝে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাঠ যেটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০৮৩ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত যার নাম হলো এল এস্তাদিও দে মিউনিসিপাল দে ভিইয়া ইনখেনিয়ো । এই স্টেডিয়ামটি ২০১৩ সালে তৈরি করা আরম্ভ করেছিল এবং যার উদ্ভোধন হয় ২০১৭ সালে । ২০২৪ সালে স্টেডিয়ামটি পুনরায় রিমডেল করা হয় , মাঠের টার্ফটি পরিবর্তন করা হয় যাতে করে করে অলরেডি ক্লাবটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারে । এই স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ দর্শক ধারন ক্ষমতা ২৫০০০ জন । এটি সবচেয়ে উচ্চতায় ভিইয়া ইনখেনিয়োতে অবস্থিত । ক্লাব স্ট্রংগেস্ট ১৬ বছর খেলাধুলায় অতিবাহিত করার পর তারা তাদের স্পোর্টস কমপ্লেক্স চালু করেছে রাফায়েল মেন্ডোছা কাসতেইঅন যেটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৫০২ মিটার থেকে উপরে অবস্থিত । এটির উদ্ভোধন করা হয় ১৯৮৬ সালে যা কিনা অবস্থিত আচুমানিতে, লাপাজের দক্ষিণে অবস্থিত ।
ক্লাব বলিভার যার কিনা ৯৯ বছরের ইতিহাস তারাও তাদের নিজস্ব স্টেডিয়াম নিয়ে এসেছে যার নাম লিবারতাদোর সিমন বলিবিয়ার যেটি কিনা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৭০৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত যেটি কিনা জনপ্রিয় শহর টেমব্লাদেরানি , যেটি কিনা ১৯৭৬ সালে উদ্ভোধন করা হয় । বর্তমানে এটি পুনরায় নির্মানাধীন এর জন্য ২০২৩ সালে কাজ শুরু হয়ে আছে যা কিনা ২০২৬ এর মাঝে শেষ হবে।

বলিভিয়ার সকল গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামের কথা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যদিও আরও কিছু স্টেডিয়াম রয়েছে তবে এখানে বলিভিয়ার সব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত স্টেডিয়ামের কথা ইতিমধ্যে বলা হয়েছে।

লিখেছেন- মোঃ নেহাল আবেদীন তন্ময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *