ব্যাট কেনার টাকা না থাকা ইলেকট্রিক মিস্ত্রির ছেলেই ভারতের শিরোপার নায়ক

ভারতে ক্রিকেটকে অনেকটা ধর্মের চোখে দেখা হয়। যেখানে শিশু-কিশোরদের বড় একটা অংশই জীবনে একবার হলেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেটার হওয়া সহজ ব্যাপার না। আর একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রির ছেলে থেকে ক্রিকেটার? সেই যাত্রাটা আরও কঠিন। তবে সেই কঠিন ব্যাপারকেই বাস্তবে রুপ দিয়েছেন তিলক ভার্মা। যার ব্যাটে ভর করে আরও একবার এশিয়াসেরা হয়েছে ভারত।

হায়দরাবাদ থেকে উঠে এসেছেন তিলক। ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দরাবাদের ব্যাটারদের আলাদা কদর রয়েছে। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, ভিভিএস লক্ষ্মণরা উঠে এসেছে সেখান থেকেই। তিলকের সাফল্যের গল্প প্রায় সবাই জানলেও ক্রিকেটার হয়ে ওঠার নেপথ্যে সংগ্রামের কথা জানেন না অনেকেই। একটা সময় ব্যাট কেনার টাকা পর্যন্ত ছিল না তার পরিবারের। কীভাবে তাহলে তিলকের জীবনের মোড় ঘুরল?

তিলকের বাবা নাম্বুরি নাগারাজু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। মা গায়ত্রীদেবী গৃহবধূ। এমন পরিবার থেকে ক্রিকেটার হওয়ার যাত্রাটা কখনই সহজ নয়। কিন্তু সেই স্বপ্নটা দেখেছিলেন নাগারাজু। সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার জন্য কোনও রকম গাফিলতি করেননি তিনি। সেই আবেগকে ছেলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। হয়তো সেই কারণে ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট অন্তপ্রাণ ছিল তিলক।

বাবার দেওয়া প্লাস্টিকের ব্যাট থেকে স্বপ্ন বোনা শুরু। সেই ব্যাটই তখন স্বপ্নের উইলো ব্যাট। কারণ, সেই সময় ব্যাট কেনার মতো টাকা ছিল না তিলকের। সেই ব্যাট নিয়েই ঘুমাতে যেতেন তিলক। সেই তিলকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ছোটবেলার কোচ, সালিম বায়াশ। ১১ বছরের তিলকের টেনিস বলের ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ে সম্ভাবনা দেখেছিলেন তিনি। সালিমই তিলককে নিয়ে যান নিজের লিগালা ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *