ক্যারিবিয়ান চমক: হাইতি ও কুরাকাও ২০২৬ এর বিশ্বকাপের মূলপর্বে

অপ্রত্যাশিতভাবে হাইতি ও কুরাকাও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে সচরাচর যে সমস্ত দেশ বিশ্বকাপে যেতে পারবে বলে মনে করা হয় যেমন কোস্টারিকা, হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া তাদের পিছনে ফেলে । এই ঐতিহাসিক সাফল্য ফুটবল বিশ্বে এক আলোড়ন তৈরি করেছে, যেখানে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্কাউটিং এর গুরুত্ব এই সমস্ত ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর ।
**স্কাউটিংয়ের প্রভাব- **
হাইতি ও কুরকাও এর বেশির ভাগ খেলোয়াড় ইউরোপে খেলে বেড়ে উঠেছে, এই সমস্ত দেশগুলো অনুমতি দিয়েছে তাদের বহির্বিশ্বের নাগরিকদের ট্যালেন্ট/ প্রতিভাকে কাজে লাগানোর ।স্কাউটিং হচ্ছে এই সাফল্যের চাবিকাঠি এবং এই উপায়ে সমস্ত খেলোয়াড়দের বাছাই করা ও তাদের নিয়োগ দেয়া হয় , হাইতি ও কুরাকাও এটাই অনুমতি দিয়েছে যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলক দলের সাথে লড়াই করতে পারে এবং পৃথিবীর ভালো ভালো দলগুলোর সাথে মোকাবেলা করার সামর্থ্য রাখতে পারে ।
হাইতি- ঐতিহাসিক পুনরাবর্তন
হাইতি ৫১ বছর পর আবারও বিশ্ব মঞ্চে ফিরে এলো, ধন্যবাদ দেয়া উচিত তাদের নিখুঁত এই অভিযাত্রাকে যেখানে তারা হন্ডুরাস, কোস্টারিকার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদেরকেও হারিয়েছে । ইউরোপে বেড়ে উঠা খেলোয়াড়দের মাধ্যমে তারা তাদের দলকে লিডারে পরিণত করেছে, হাইতি তাদের সামর্থ্য দেখিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার ।


কুরাকাও- স্বপ্নিল আত্মপ্রকাশ
কুরাকাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তাদের চমৎকার পারফরম্যান্স এর জন্য , তারা গুয়েতেমালা, এল সালভাদর দলগুলোর মতো শক্তিশালী দলকে টপকিয়ে বিশ্বকাপে পৌছেছে ।একটি তরুণ্যদীপ্ত ও মেধাভিত্তিক দল নিয়ে তারা টুর্নামেন্টে ইতিহাস রচনার খোজে ।
**স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব **
স্কাউটিং হাইতি আর কুরাকাও এর সাফল্যের চাবিকাঠি হিসাবে পরিলক্ষিত ।ইউরোপ থেকে মেধাবী খেলোয়াড় বের করা ও তাদের নিয়োগ দেবার মাধ্যমে, এইসব দেশ নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীমূলক দল হিসেবে তৈরি করেছে ।
আমরা মরক্কোর বিগত বছরগুলোর সাফল্য এর দিকে তাকালেও দেখতে পাবো তারাও এই একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে , জ্যামাইকা ও সুরিনাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে অফ বাছাই পর্বে যেতে পেরেছে দক্ষ স্কাউটিং এর জন্য । মরক্কো অবিশ্বরনীয় সাফল্য পেয়েছে তাদের সব ক্যাটাগরিতে মূলত স্কাউটিংয়ের স্ট্রাটেজিতে/ কৌশলে মনোনিবেশ করে সেই সাথে খেলোয়াড়দের ট্রেনিংয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে । আলোচনার এই পর্যায়ে আমরা আপনাদের তাদের কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরবো:
তরুণদের টুর্নামেন্টে সফলতা
১. অনূর্ধ্ব-২০ ২০২৫ বিশ্বকাপ বিজয়ী, ২-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ।
২. ⁠অনূর্ধ্ব-২০ ২০২৩ আফ্রিকান কাপে রানার্সআপ
৩. ⁠অনূর্ধ্ব -১৭ ২০২৩ আফ্রিকান কাপে চ্যাম্পিয়ন
৪. ⁠প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ মেডেল

**জাতীয় দলে সাফল্য **
১. ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান
২. ⁠আফ্রিকান নেশনস কাপ ২০১৮ ও ২০২০ এর চ্যাম্পিয়ন
৩. ⁠২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়া

**মরক্কোতে স্কাউটিংয়ের প্রভাব **
মরক্কোতে স্কাউটিং একটি সাফল্যের টোটকা হিসেবে কাজ করেছে ।রিয়েল মারক্কিয়ান ফুটবল ফেডারেশন অনেক বেশী বিনিয়োগ করেছে তাদের বিশ্বের চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা মেধা বাছাই ও তাদের নিয়োগের জন্য, বিশেষ করে ইউরোপে অবস্থিত তাদের মেধার জন্য । এর মাধ্যমে মরক্কো একটি মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করেছে ও তাদের দলকে নিয়ে গেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতায় ।

**সুরিনাম ও জ্যামাইকা প্লে অফে **
অন্যদিকে সুরিনাম ও জ্যামাইকা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্লে অফে যাবার মর্যাদা অর্জন করেছে । সুরিনাম বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, তারা তাদের জাতীয় দলে বিনিয়োগ করেছে, বিনিয়োগ করেছে ইউরোপ থেকে মেধা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। জ্যামাইকা অন্যদিকে একটি নিখুঁত দল পেয়েছে এবং তারা প্লে অফ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ।

লেখকঃ ইটসন লামেদা (পরিচালক, স্কাউটিং ভিশন স্পোর্ট)

অনুবাদ করেছেনঃ মোহাম্মদ নেহাল আবেদীন তন্ময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *