অস্ট্রেলিয়ার সবুজ গালিচায় শেষ হলো বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম এএফসি এশিয়ান কাপ অভিযান। ফলাফল বিচারে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর এই পুরো আসরে বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের চোখের প্রশান্তি ছিলেন একজনই- ঋতুপর্ণা চাকমা। উইং দিয়ে তার গতি, ড্রিবলিং আর নির্ভীক ফুটবল শৈলী সিডনি থেকে পার্থ পর্যন্ত মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।
পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতা খুঁজতে গেলে ঋতুপর্ণার দুটি বিশেষ মুহূর্তের কথা আজীবন মনে থাকবে ফুটবল প্রেমীদের।
চীনের বিপক্ষে সেই দূরপাল্লার রকেট:
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে মাঝমাঠের কিছুটা ওপর থেকে ঋতুপর্ণা যে বিদ্যুৎগতির বাঁ-পায়ের শটটি নিয়েছিলেন, তা দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গ্যালারি। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই বাঁকানো শটটি চীনের গোলরক্ষক চেন চেন কোনোমতে আঙুল ছুঁইয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। গোল না হলেও সেটি ছিল এশিয়ার অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা প্রথম শক্ত হুঙ্কার।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাঁকানো কার্লিং শট: গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে যখন গোল পেতে মরিয়া বাংলাদেশ, তখন আবারও দৃশ্যপটে ঋতু। ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় তহুরা খাতুনের বাড়ানো থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের কোনা থেকে এক দর্শনীয় কার্লিং শট নেন ঋতুপর্ণা। উজবেক গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রক্ষা না করলে সেটি হতে পারত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম গোল।
টুর্নামেন্ট জুড়ে ঋতুপর্ণার খেলা দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি প্রথমবার এত বড় মঞ্চে খেলছেন। চীন, উত্তর কোরিয়ার মতো বিশ্বসেরা দলগুলোর শারীরিক ও কৌশলী ফুটবলের সামনেও তিনি দমে যাননি। তার খেলার মধ্যে ছিল একজন পরিপূর্ণ পেশাদার অ্যাথলেটের ছাপ। রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় তার গতি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের তটস্থ করে রেখেছিল। ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়া এবং চাপের মুখেও বল পজেশন ধরে রাখার দক্ষতা ছিল দেখার মতো। মাঠে সিনিয়র হিসেবে তরুণ সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে তাকে বারবার দেখা গেছে।
যদিও বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে, কিন্তু ঋতুপর্ণা চাকমার এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে যে, সুযোগ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে এশিয়ার সেরাদের কাতারে যাওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে। এশিয়ান কাপ শেষ হলেও ঋতুপর্ণার এই ‘চমক’ এখন দেশের ফুটবলে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।


