টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে বল হাতে গতির ঝড় আর ঘূর্ণি জাদুতে ব্যাটারদের কোণঠাসা করে রাখা তালিকার শীর্ষে এই ৬ জন বোলার এখন ইতিহাসের পাতায় অনন্য উচ্চতায়। সেখানে সাকিব আল হাসান তার সিংহাসন ধরে রাখলেও, জাম্পা-রশিদ-বুমরাহরা গড়েছেন নতুন কীর্তি।
টি-টোয়েন্টি মানেই যেখানে ব্যাটারদের দাপট, সেখানে একঝাঁক বোলার নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া শীর্ষ ৬ জন বোলার হলেন:
১. সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) – ৫০ উইকেটঃ
বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে উইকেটের ‘হাফ সেঞ্চুরি’ পূর্ণ করেছেন সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করে ৪৩ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়ে তিনি এখনো এই তালিকার অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা।
২. অ্যাডাম জাম্পা (অস্ট্রেলিয়া) – ৪৪ উইকেটঃ
অস্ট্রেলিয়ার এই লেগ-স্পিনার বিশ্বকাপে অজিদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর মাঝের ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতায় তিনি আদিল রশিদকে পেছনে ফেলে গড় ও ইকোনমিতে এগিয়ে থেকে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
৩. আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড) – ৪৪ উইকেটঃ
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর আদিল রশিদ। জাম্পার সমান ৪৪ উইকেট থাকলেও বোলিং গড়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় তিনি তালিকার তৃতীয় অবস্থানে। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে তার গুগলি এখনো বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের জন্য ধাঁধা।
৪. রশিদ খান (আফগানিস্তান) – ৪৩ উইকেটঃ
আফগান ক্রিকেটের পোস্টার বয় রশিদ খান মাত্র ২৭ ইনিংসে ৪৩ উইকেট নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে। এছাড়াও, ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপ মঞ্চে তিনিই প্রথম বোলার হিসেবে টি২০ ফরমেটে ৭০০ উইকেট অর্জনের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অবিশ্বাস্য ইকোনমি রেট আর ডট বল দেওয়ার দক্ষতায় তিনি এই ফরম্যাটের অন্যতম ভয়ংকর বোলার।
৫. ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) – ৪০ উইকেটঃ
শ্রীলঙ্কার এই স্পিন জাদুকর খুব অল্প সময়েই কিংবদন্তিদের কাতারে নাম লিখিয়েছেন। মাত্র ২০ ইনিংসে ৪০ উইকেট শিকার করে তিনি গড় এবং স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে তালিকার শীর্ষ বোলারদের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে।
৬. জাসপ্রীত বুমরাহ (ভারত) – ৪০ উইকেটঃ
তালিকায় থাকা একমাত্র জেনুইন পেসার হিসেবে ৪০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহ। তার নিখুঁত ইয়র্কার আর স্লোয়ারের জাদুতে ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য, যা তাকে এই অভিজাত তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই মহাতারকারা প্রমাণ করেছেন, দিনশেষে বোলাররাই টুর্নামেন্ট জেতান।


