ঢাকায় বিশ্বখ্যাত গলফ কোচ গ্রেগরিচ, ক্লাসে তারকা গলফার সিদ্দিকুর রহমান

বিশ্বখ্যাত কোচ স্লোভেনিয়ার ইউরোস গ্রেগরিচ আজ বাংলাদেশে এসেছেন। সকালে ঢাকায় পা রেখেই দিনভর সিদ্দিকুর রহমানদের ক্লাস নিয়েছেন।
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের আয়োজনে আর্মি গলফ ক্লাবের বাংলাদেশ গলফ একাডেমীতে শুরু হয়েছে চারদিন ব্যাপী স্থানীয় কোচদের ট্রেনিং প্রোগ্রাম ‘টেকনিক্যাল কোর্স ফর কোচেস ইন গলফ’। এই প্রোগ্রামে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।


বাংলাদেশের স্থানীয় কোচদের মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে অংশ নিচ্ছেন দেশের তারকা গলফাররাও। সকালে উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের (বিজিএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রাজ্জাক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজিএফের জেনারেল সেক্রেটারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাঈদ সিদ্দিকী, জয়েন্ট সেক্রেটারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ বি এম শেফাউল কবির। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ডিরেক্টর মো. আমিনুল আহসান, বাংলাদেশ গলফ একাডেমীর ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল তোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
এই কোর্সে সস্ত্রীক অংশ নিয়েছেন দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। এ ছাড়া স্থানীয় কোচরা, যাদের হাত ধরে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গলফার। দেশীয় কোচরা যাতে নতুন গলফার তৈরিতে আরও পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং তাদের শেখানোর মধ্যে যাতে কোনো গ্যাপ না থাকে সেজন্যই বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন প্রথমবারের মতো এমন অভিনব আয়োজন করে।


এমন আয়োজনে ট্রেনার হিসেবে অংশ নিতে পেরে বেশ খুশি স্লোভেনিয়ার কোচ ইউরোস গ্রেগরিচ। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দেশেই এমন ট্রেনিং করিয়েছি। এটা খুবই দরকারী। এতে কোচদের দক্ষতা বাড়বে। আমি বাংলাদেশে এমন একটি আয়োজনের ট্রেনার হতে পেরে খুবই খুশি।’
প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করছি। গলফ খেলতে শারীরিক এবং মানসিক দুই বিষয়েই দক্ষ হতে হয়। যারা নতুন গলফার তৈরি করবেন, তাদের শেখানোর মধ্যে যাতে কোনো রকম ঘাটতি না থাকে সে কারণেই এমন ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এটা আমাদের গলফে দারুন কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।’
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের জেনারেল সাঈদ সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশের গলফের উন্নতি করতে হলে সবার আগে কোচদের মান উন্নয়ন করতে হবে, কেননা তারাই তো গলফ শেখান। আমার বিশ্বাস এই ট্রেনিং আমাদের স্থানীয় কোচদের আরও বেশি দক্ষ করে তুলবে। আর স্থানীয় কোচরা যত দক্ষ হবেন আমরা তত দক্ষ গলফার পাবো।’
তারকা গলফার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি কোচ নই, তারপরও মনে করি এমন ট্রেনিংয়ের দরকার আছে। শেখার তো কোনো শেষ নেই। আমার লক্ষ যতদিন পারি গলফ খেলা চালিয়ে যাবো। আমার বিশ্বাস, এই কোর্স থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবো।’
বাংলাদেশ জাতীয় গলফ দলের কোচ নাদিম হোসেন বলেন, ‘আমরা স্থানীয় কোচরা খুবই ভাগ্যবান, সে কারণেই এমন বড় একজন ট্রেনারের কাছে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। চার দিনের এই ট্রেনিং আমাদের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে দেবে। আশা করছি, এখান থেকে আমরা অনেক নতুন কিছু শিখবো, যা নতুন গলফার তৈরিতে কাজে লাগাতে পারবো।’
চারদিনের এই প্রোগ্রামের প্রথম দিন গতকাল পরিচিত পর্ব শেষে কোচদের স্কিল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল এবং থিওরীক্যাল দুই বিষয়েই দেখিয়ে দিয়েছেন গ্রেগরি। সকাল নয়টা থেকে শুরু করে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চলে ক্লাস।
আগামীকালের ক্লাসে শেখানো হবে পাটিং ও চিপিংয়ের প্র্যাকটিক্যাল এবং থিওরীক্যাল বিষয়বস্তু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *