নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার: মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মেসিরা

ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দাপট ছিল মিশরেরই। মাঠে উপস্থিত দর্শক থেকে শুরু করে ফুটবলপ্রেমীরা যখন আর্জেন্টিনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন, ঠিক তখনই যেন রূপকথার গল্পের মতো ঘুরে দাঁড়ালো লিওনেল মেসির দল। শুরু থেকেই রক্ষণভাগকে সুসংগঠিত রেখে এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে মিশরীয়রা প্রথমার্ধের ১৫ তম মিনিটে প্রথম গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। প্রতিপক্ষের রক্ষণে বারবার আঘাত হেনে মিশর যেভাবে ছন্দময় ফুটবল খেলছিল, তাতে মনে হচ্ছিল এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ফেরার কোনো পথই খুঁজে পাবে না। কিন্তু ফুটবলে ৭৮ মিনিটের সেই চিত্রপট নিমেষেই বদলে দেয় আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটের চিত্রনাট্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৭৯তম মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনা যেন নতুন উদ্যমে জেগে ওঠে। রোমেরোর জাদুকরি গোলের পর, একের পর এক আক্রমণ আছড়ে পড়তে থাকে মিশরের রক্ষণভাগে। রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে আর্জেন্টিনা যখন সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন অসহায় হয়ে পড়ে মিশর। ৮৩ তম মিনিটে মেসির গোলে সমতা ফেরানো এবং সবশেষে জয়সূচক গোলটি করার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের অবিশ্বাস্য এক রোমাঞ্চ উপহার দেয়। আর্জেন্টিনা যেন বুঝিয়ে দিল, কেন তাদের হাল ছেড়ে দিতে নেই।

শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে ৩-২ গোলের এই নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেওয়ার মানসিক দৃঢ়তা এবং শেষের বিশ মিনিটের উত্তাল পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক অধ্যায় হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, দুর্দান্ত খেলে শেষ মুহূর্তে এসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মিশরকে। অদম্য লড়াইয়ের এই ম্যাচটি ফুটবল প্রেমীদের কাছে দীর্ঘসময় স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে, যেখানে শেষ হাসিটা হাসল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *