২০২৬ বিশ্বকাপে কোন দল কত টাকা পাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, আর্থিক পুরস্কারের দিক থেকেও গড়ছে নতুন ইতিহাস। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের টুর্নামেন্টে মোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা) প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ফিফা, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই পুরস্কারের পরিমাণ কাতার বিশ্বকাপের প্রাইজমানির চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের প্রাইজমানির ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের অর্থ ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৮১ কোটি টাকা)। বাকি ২১৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা) অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রস্তুতি, লজিস্টিকস ও অন্যান্য সহায়তা (যেমন- ভ্রমণ, আবাসন এবং প্রতিনিধি দল পরিচালনা) বাবদ খরচ হয়।
গত এপ্রিলে ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দেশ শুরুতেই নিশ্চিতভাবে ১২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫৪ কোটি ২২ লাখ টাকা) করে পাচ্ছে। এর মধ্যে টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার এবং ভ্রমণ, লজিস্টিকস, প্রশাসনিক ব্যয় ও প্রতিনিধি দলের খরচ হিসেবে আরও ২.৫ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।
বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার হিসেবে পাবে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার (৬১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা), যা ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার পাওয়া অর্থের চেয়ে ৮ মিলিয়ন ডলার বেশি। এ ছাড়া রানার্সআপ দল পাবে আরও ৩৩ মিলিয়ন ডলার (৪০৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা), তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন ডলার (৩৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা) এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার (৩৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা)।

কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া দলগুলো ১২.৫ মিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি পাবে আরও ১৯ মিলিয়ন ডলার (২৩৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা) করে। সে হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়া ৪টি দল (মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড) পাচ্ছে ৩১.৫ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়া শেষ ষোলোয় বাদ পড়া দলগুলো পাচ্ছে ১৫ মিলিয়ন ডলার (১৮৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা) করে। এ পর্বে বাদ পড়া দলগুলো হলো-ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কলম্বিয়া, কানাডা ও প্যারাগুয়ে। এসব দল পাবে মোট ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার করে।

রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য প্রাইজমানি হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ মিলিয়ন ডলার (১৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা) করে। সে হিসেবে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, জাপান, সুইডেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, আলজেরিয়া, আইভরিকোস্ট, ইকুয়েডর, ডিআর কঙ্গো, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, অস্ট্রিয়া, কেপ ভার্দে, অস্ট্রেলিয়া ও ঘানা কোয়ালিফাই ও প্রস্তুতি খরচের ১২.৫ মিলিয়ন ছাড়াও প্রাইজমানি হিসেবে পাচ্ছে আরও ১১ মিলিয়ন ডলার অর্থ্যাৎ ১৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা করে।
গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলেও কোনো দল খালি হাতে ফিরবে না। এ পর্যায়ে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে আরও ৯ মিলিয়ন ডলার (১১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা)। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দল ১৬টি দল হলো দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, কাতার, স্কটল্যান্ড, হাইতি, তুরস্ক, কুরাসাও, তিউনিসিয়া, ইরান, নিউজিল্যান্ড, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, উজবেকিস্তান ও পানামা।

ফিফা জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় ম্যাচসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব, বাণিজ্যিক আয় এবং স্পনসরশিপ থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অতিরিক্ত আয়ের একটি বড় অংশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বণ্টন করতেই এবারের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে।

ফিফার এই বিশাল আর্থিক অনুদান সরাসরি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর তহবিলে জমা হয়, যার একটি অংশ খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও বোনাস হিসেবে দেওয়া হয়। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিপুল অঙ্কের প্রাইজমানি দেশগুলোর ফুটবলের তৃণমূল পর্যায়সহ সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *