ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ হতেই ফুটবল বিশ্ব দেখছে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে (Cabo Verde) তাদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বে। আর এই ঐতিহাসিক যাত্রায় এবার তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। আগামী ৩ জুলাই মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের গ্রুপ থেকে কেপ ভার্দে নকআউটে যাবে-এমন বাজি ধরার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু ‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত দলটি গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে ইতিহাস পুনর্লিখন করেছে। ৩ ম্যাচে ৩টি ড্র করে গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে তারা শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে গোলশূন্য ড্র করে ঐতিহাসিক প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে কেপ ভার্দে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম আসরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে অসম লড়াইয়ে শেষমেশ ২-২ এ ড্র করে নিজেদের টিকিয়ে রাখে ব্লু শার্ক রা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও রক্ষনশীল খেলা প্রদর্শন করে গোলশূন্য ড্র করে নক আউট পর্বের টিকিট কেটে ফেলে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় দলটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেপ ভার্দে মাত্র তৃতীয় দল, যারা নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচই ড্র করে নকআউটে কোয়ালিফাই করার অনন্য রেকর্ড গড়ল।
কেপ ভার্দের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল তাদের অবিশ্বাস্য কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা। কোচ বুবিস্তার অধীনে দলটি মাঠে দেখিয়েছে কীভাবে বড় দলের তারকাদের বিপক্ষে ভয়হীন ফুটবল খেলতে হয়। এই রূপকথার প্রধান নায়ক তাদের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। পুরো গ্রুপ পর্বে তিনি পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। স্পেন এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে ক্লিন শিট রাখা এই গোলরক্ষক রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় চমকে পরিণত হয়েছেন।
”আমরা বিশ্বকে দেখিয়েছি যে কোনো পরিস্থিতিকেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মাঠে যখন ব্যক্তিত্ব এবং শৃঙ্খলা এক হয়ে যায়, তখন এমন ফলাফলই আসে। আমাদের দলের জন্য কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।”
- বুবিস্তা, কেপ ভার্দের প্রধান কোচ


