জার্সি ও অন্যান্য পরিধেয় বিক্রি করে ১৮৯ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে বার্সেলোনা, যা ইউরোপে সব ক্লাবগুলোর চেয়েও বেশি। এরপরেও কেন নাইকি সাথে দীর্ঘদিনের চুক্তি ছাড়তে চায় বার্সেলোনা?
প্রথমেই জেনে নেয়া যাক, তিনটটি ক্লাব এডিডাস ও নাইকির কাছ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে থাকে; রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বার্তেমিউ পদত্যাগ করার আগে বার্সার সাথে নাইকির বাৎসরিক ১০৫ মিলিয়ন (ফিক্সড) ইউরোর চুক্তি থাকলেও নাইকি একটা শর্ত জুড়ে দেয়। ২০২৫ বা ২৬ সালের মধ্যে বার্সাকে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লীগ জিততে হবে। উল্লেখ্য বার্সেলোনার নারী দল ইতোমধ্যে একটি জিতেছে এবং আরো দুইটটি সিএল জেতার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু শর্ত মোতাবেক পুরুষ দলকেও কমপক্ষে একটা চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা লাগবে। শর্ত পূরণ না হওয়ায় বার্সা এই চুক্তি থেকে শুধুমাত্র ৭৮ মিলিয়ন ইউরো করে পাচ্ছে যা চেলসি, লিভারপুল বা বায়ার্নের চেয়ে একটু বেশি। দ্বিতীয়ত, বার্সার জার্সির চাহিদা আছে এমন সব জায়গাতেই নাইকির পর্যাপ্ত স্টোর নেই। একারণে নাইকি তৃতীয় কোনো ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে এই জায়গাগুলাতে জার্সি বিক্রি করে থাকে। এখান থেকে নাইকি রয়্যালটি নিলেও বার্সাকে দেয়না। তৃতীয়ত, বার্সার আয়ের আলাদা একটি শাখা হচ্ছে বার্সা লাইসেন্সিং ও মার্চেন্ডাইজিং। লাপোর্তার ইচ্ছা এই সেক্টরকে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্য নির্ধারণ করে এই শাখাকে আইপিও করাবে। কিন্তু বার্তেমিউয়ের আমলে নাইকি এই সেক্টরের অনেকগুলো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেয় যার কারণে বার্সা বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
এতোকিছুর পরেও বার্সেলোনা সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করছে এই বিভাগ থেকে। লাপোর্তা এই ক্ষতি বারবার দেখতে চাচ্ছেনা – যার ফলাফল হচ্ছে নাইকির সাথে বনিবনা না হওয়া। বর্তমানে পুমা বার্সাকে সব ক্লাবগুলোর থেকে বেশি টাকা দিয়ে স্পন্সর করতে চাইলেও নাইকির কিছু শর্তের কারণে এটা পারছেনা। শেষ খবর হচ্ছে বার্সা আলোচনা করে কিছু অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে আপাতত নাইকির সাথেই চুক্তি বহাল রাখবে। নিশ্চিতভাবে তখন এই সেক্টরে মুনাফা আরো বেড়ে যাবে স্প্যানিশ এই ক্লাবটির।
এসকে/আরআই


