আরও একবার বড় মঞ্চে স্প্যানিশদের কাছে ধরাশায়ী জার্মানরা

আরও একবার বিগ স্টেজে স্প্যানিশদের হাতেই থামতে হলো জার্মানদের। তর্ক সাপেক্ষে এই ইউরোর সেরা দল ছিলো জার্মানরা। আক্রমণ ও রক্ষন মিলিয়ে সব থেকে ব্যালান্সড টিম। এই টিমকেও একরকম ট্যাক্টিক্যালি ডেস্ট্রয় করে দিলো স্প্যানিশরা। বরাবরের মতোই বিগ স্টেজে আরও একবার এই স্প্যানিশদের হাতেই শেষ হতে হলো জার্মানদের। ফুটবলে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায়। সেটা হলো কোনো দলই একদম পুরোপুরি আনবিটেবল নয়। সব দলেরই কোনো না কোনো অ্যান্টিডোট থাকেই।

আজকের ম্যাচে ফেরা যাক, এবারের ইউরোতে জার্মানদের মূল স্ট্রেন্থের জায়গাটাই ছিলো অ্যাডাপটেবিলিটি ও ভার্সাটালিটি। সিচুয়েশন অনুসারে জার্মানরা খেলছিলো লং বল; ডেনমার্কের সাথে করা ২য় গোলটাই যার সব থেকে বড় প্রমান। আবার সময় মতো খেলছিলো অপনেন্ট হাফে স্পেস ক্রিয়েট করে সেগুলো কাজে লাগানো। ইল্কায় গুন্দোয়ান বক্সের বাইরের মুভমেন্ট হেল্প করতো কাই হাভার্টজের মতো ডিপে খেলা ফরোয়ার্ডদের হাফ স্পেস গুলো কাজে লাগাতে। একই সাথে মুসিয়ালার মতো অফেনসিভলি অ্যাকটিভ প্লেয়ার যারা কিনা প্রতি মুহূর্তে অপজিশন টিমের ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারদের অ্যাট্রাক্ট করে, এরাই যোগ করতো ক্রিয়েটিভিটি। সাথে জার্মানদের চিরোচেনা নিখুঁত পাসিং। আর পুরো গেমের ফ্লো কন্ট্রোল করতো একজন, সেটা আর কেউ না বরং বিদায়ী টনি ক্রুস। দল কতটা দ্রুত বল প্রোগ্রেস করবো এটা যেন নির্ভরই করতো ক্রুসের উপর।অপরদিকে যদি স্পেনের দিকে তাকাই। তাদের মূল শক্তির জায়গাই হলো তাদের মিড। বলতে গেলে মিডে একদমই জায়গা না দেয়া। একই সাথে ফুলব্যাকরা উপরে উঠে এসে মিডে ওভারলোড করে একদমই স্পেস নিতে না দেয়া। ৩জন মিড একদম উপরে অফেনসিভলি খেলার সুযোগ পায় মূলত কুকুরেলা ও কার্ভাহালের মিডের ঠিক নিচে ও সেন্টার-ব্যাকদের উপরে এসে প্লেমেকিং এ হেল্প করায়। ঠিক এই কাজটাই জার্মানদের ক্রমাগত স্পেস ক্রিয়েট করতে দেয়নি। খেলতে দেয়নি তাদের ন্যাচারাল খেলা। একই সাথে ২ স্প্যানিশ নিকো উইলিয়ামস ও লামিন ইয়ামালের 1V1 টেক অন করা যোগ করে আরও বেশি বৈচিত্র্য।

ক্রমাগত স্পেস ক্রিয়েট করা আবার খেলোয়াড়দের ক্রমাগত পজেশনাল চেঞ্জ নির্দিষ্ট করে একটা স্প্যানিশ প্লেয়ারকে মার্ক করা কঠিন করে তোলে। শেষ পর্যন্ত জার্মানদের সবথেকে স্ট্রংজোন মিডেই ধরাশায়ী করে দিলো স্পেন। আবার এই ম্যাচেই কার্ডের খড়গে পরে সেমিফাইনাল মিস করবে দানি কার্ভাহাল। প্রতিপক্ষ ফ্রান্স; যারা কিনা এখনো একটা ওপেন প্লে গোলও করেনি। তবে তাদের মূল স্ট্রেন্থের জায়গাই আবার কুইক কাউন্টার। বাম দিক দিয়ে দ্রুত আক্রমনে ওঠার জন্যে এম্বাপ্পের চেয়ে বেটার আর কেইবা হতে পারে এই মুহুর্তে। পর্তুগাল ম্যাচের শুরুটা মাঝে খেলে শুরু করলেও ২য় হাফে আবার বামদিকে শিফট হন এম্বাপ্পে। এমন ম্যাচেই কার্ভাকে মিস করবে স্পেন। সবদলেরই একটা অ্যান্টিডোট টিম থাকেই। জার্মানদের ছিলো স্প্যানিশরা। ঘরের মাঠেই ইতি টেনে দিল জার্মান ডিসিপ্লিনের।

এসকে/ওবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *