সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ২০২৫ শেষ হলো ভারতীয় ক্রিকেটের উৎসবমুখর জয়যাত্রার মাধ্যমে। পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ভারত জিতলো তাদের নবম এশিয়া কাপ শিরোপা। টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা যে প্রভাব বিস্তার করেছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয় তাদের।
এশিয়া কাপ ২০২৫ মূলত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত টি২০ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টে মোট ৮টি দল অংশ নেয় যার মধ্যে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল এর ৫টি পূর্ণ সদস্য (ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান) এবং ৩টি যোগ্যতা প্রাপ্ত দল (সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, হংকং) অন্তর্ভূক্ত। দলগুলোকে দুইটি গ্রুপে বিভক্ত করে শুরু হয় গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে দুই গ্রুপের যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দল গুলো সুযোগ পায় সুপার ফোরে খেলার জন্য। গ্রুপ পর্বে নানান নাটকীয়তা ও তুমুল লড়াই শেষে ভারত, পাকিস্তা্ শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সুযোগ পায় সুপার ফোরে খেলার জন্য।
গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে , সুপার ফোর এর ম্যাচগুলোতে ভারতের একক আধিপত্য পরিলক্ষিত হয় এবং শেষমেশ ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নবম শিরপা তুলে নেয় ভারত। শুরু থেকেই ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই বেশ আক্রমনাত্মক খেলা দিয়ে আসতে থাকে ভারত। বিশেষ করে অভিশেক শর্মার ব্যাটিং তান্ডবের কথা না বললেই নয়, ফাইনাল সহ ৭ ম্যাচে ২০০ স্ট্রাইক রেটে তুলে নেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩১৪ রানের এক মহাসংগ্রহ, যা তাকে রান সংগ্রাহকের তালিকায় প্রথম স্থানে রাখে এবং সেই সাথে ফাইনাল শেষে বাগিয়ে প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট অ্যাওয়ার্ড। তার সাথে তাল মিলিয়ে মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করেন তিলক ভার্মা, ৬ ইনিংসে ২১৩ রান করে অবস্থান করেন ৪র্থ স্থানে। ফাইনালে ঝড় ইনিংসে ভারতের হাতে বিজয় মুকুট তুলে দিয়ে বাগিয়ে নেন প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড। শ্রীলঙ্কার হয়ে পাথুম নিশাঙ্কা ৬ ম্যাচে মোট ২৬১ রান করে অবস্থান করেন দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে ৭ ম্যাচে মোট ২১৭ রান করেন পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।

অন্যদিকে, বোলিং ডিপার্টমেন্টেও স্মার্ট অবস্থান ভারতের। কুলদ্বীপ জাদব মাত্র ৭ ম্যাচে মোট ১৭ উইকেটের জুলি নিয়ে বড় ব্যবধানে সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকায় প্রথম স্থানে অবস্থান করেন শেষ অবধি। পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি ৭ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে অবথান করেন ২য় স্থানে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জুনাইদ সিদ্দি্ বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান এবং পাকিস্তানের হ্যারিস রউফ প্রত্যেকেই ৯ টি করে উইকেট নিয়ে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে অবস্থান করেন।

ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তান ১৯.১ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়, জবাবে ভারত শেষ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ৫ উইকেট হাতে রেখেই। পাকিস্তান শুরুতে ভালো ব্যাটিং শুরু করলেও ফিনিশিং পয়েন্টে এসে শেষ ৬ ওভারে হঠাৎ ব্যাটিং ধসে পড়ে এবং ফলশ্রুতিতে তারা ভারতের সামনে বড় কোনো সংগ্রহ রাখতে ব্যর্থ হয়। কুলদীপ যাদবের (৪/৩০) স্পিনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পাকিস্তানের মিডল অর্ডার। অন্যদিকে, ভারত শুরুতেই টপ অর্ডার ব্যাটিং লাইনে ভাঙন ধরে তবে শেষ দিকে তিলক বর্মা (৬৯*) ও শিবম দুবে জুটি গড়ে ভারতের জয়ের ভিত রচনা করেন।
এশিয়া কাপ ২০২৫ এর আসল নায়ক ছিলেন ব্যাট হাতে অভিষেক শর্মা আর বল হাতে কুলদীপ যাদব। তবে নিসাঙ্কা, তিলক, সাইফ বা ফারহানও নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরেছেন। অন্যদিকে শাহিন, মুস্তাফিজ কিংবা হারিস রউফ প্রমাণ করেছেন এশিয়ার ক্রিকেটে এখনও পেস বোলাররা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।


