ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং মাঠের নিখুঁত পারফরম্যান্সে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ম্যাচজুড়ে ফরাসিদের ওপর স্প্যানিশদের একক আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধের ২২তম মিনিটেই পেনাল্টিতে গোল হজম করতে হয় ফরাশিদের, যা কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। এরপর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর, দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবল ধরে রাখে লা রোহারা। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে পেদ্রো পোরো’র আক্রমনে চমৎকার ভাবে দ্বিতীয় গোলটি করে স্পেনের জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। ফরাসি রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে পুরো ম্যাচেই দাপুটে ফুটবল উপহার দেয় দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
কৌশলগত দিক থেকে এই ম্যাচে স্পেনের মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগের রসায়ন ছিল দেখার মতো। প্রথমার্ধে ২২ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি স্পেনের আক্রমণভাগকে ম্যাচে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। ফ্রান্স সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ চালালেও স্পেনের জমাট রক্ষণভাগের সামনে তা বারবার পরাস্ত হয়। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল দিদিয়ে দেশমের দল, কিন্তু ৫৮তম মিনিটে স্পেনের দ্বিতীয় গোলটি ফ্রান্সের ম্যাচ সমতায় ফেরার সব পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করে দেয়। দুই গোলের লিড নেওয়ার পর স্পেন ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে এবং বল পজেশন ধরে রেখে ফ্রান্সকে কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্পেন শুধু ফাইনালের টিকিটই কাটেনি, বরং চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের ফেভারিট তকমা আরও একবার প্রমাণ করল তারা।
প্রথম সেমিফাইনালের রোমাঞ্চ শেষ হতে না হতেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দিকে। আগামীকাল রাত ১টায় মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। একদিকে ল্যামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসদের স্পেনের বিপক্ষে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামার মিশন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির উত্তরসূরিদের সামনে ঐতিহ্যবাহী ইংলিশ শিবিরের কঠিন চ্যালেঞ্জ। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই ব্লকবাস্টার ম্যাচের জন্য, যেখান থেকে নির্ধারিত হবে কার হাতে উঠছে ফাইনালের দ্বিতীয় টিকিট।


