রুদ্ধশ্বাস, উত্তেজনা এবং শেষ মুহূর্তের জাদুকরী নাটক- ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ঠিক এই রোমাঞ্চেরই সাক্ষী হলো পুরো ফুটবল বিশ্ব। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঐতিহ্যবাহী প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের রক্ষণাত্মক ফুটবলের পর দ্বিতীয়ার্ধে যে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প আর্জেন্টিনা লিখল, তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই বেশ রক্ষণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হলেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চেনা খোলস ছেড়ে বের হয় থ্রি-লায়ন্সরা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। তার চমৎকার গোলটিতে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। গোল হজমের পর ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হলেও আলবিসেলেস্তেরা তাদের লড়াকু মানসিকতা ধরে রাখে।

ম্যাচের ঘড়ির কাঁটা যখন শেষের দিকে যাচ্ছিল এবং ইংলিশ সমর্থকেরা যখন ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য নাটক। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো এক শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মাঝমাঠের প্রাণভোমরা এনজো ফার্নান্দেজ।
১-১ সমতায় ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯০+২ মিনিটে) দৃশ্যপটে হাজির হন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থককে বুনো উল্লাসে ভাসিয়ে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালের এই কঠিন বাধা পার হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সামনে এখন বিশ্বমঞ্চের শেষ পরীক্ষা। আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শিরোপা নির্ধারণী মহরণ বা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একদিকে লা রোহাদের গতিময় ও টিকিটাকা পাসিং ফুটবল, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার লড়াকু মনোভাব এবং বিশ্বজয়ের ধারাবাহিকতা- সব মিলিয়ে এই ফাইনালটি একটি ধ্রুপদী রূপ নিতে যাচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যেখানে নির্ধারিত হবে কার মাথায় উঠছে বিশ্ব ফুটবলের সোনালী মুকুট।


